গন্তব্য অনুযায়ী ট্রাক ভাড়া বেড়েছে কমপক্ষে ৫-৭ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি ভাড়া বেড়েছে চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে। পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় জিনিসপত্রের দামও বেড়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ২২-২৩ হাজার টাকা। ২ এপ্রিল থেকে সেই ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২৮-৩০ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম রুটে ১৫ টন পণ্য পরিবহনে আগে গুনতে হতো ৩০-৩৫ হাজার টাকা ভাড়া। এখন সেখানে গুনতে হচ্ছে ৪০-৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এ কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে।
ট্রাকভর্তি পণ্য নিয়ে বেনাপোল থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন চালক আবুল কাসেম। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিনের ব্যবধানে ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫-৭ হাজার টাকা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসা পথে বসবে।’ আরেক চালক আবদুস সোবহান বলেন, ‘এক গাড়ি চাল নিয়ে যাচ্ছি। আগের চেয়ে ৫ হাজার টাকা ভাড়া বেশি গুনতে হচ্ছে। মালিক এ টাকা ওঠাতে গেলে পণ্যের দামের ওপর প্রভাব পড়বে।’
ট্রাক ভাড়া বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আসলে দেশে তেলের (ডিজেলের) তেমন সমস্যা নেই। পর্যাপ্ত তেল নিয়েই ট্রাকগুলো চলাচল করছে। তেল সংকটের অজুহাতে ট্রাকের ভাড়া বাড়িয়েছে মালিক পক্ষ। এখানে সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিরুপায়।’
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, ‘দেশে ডিজেলের তেমন সমস্যা নেই। তার পরও নির্দিষ্ট সময়ে তেল না পাওয়ার প্রভাব ভাড়ায় পড়তে শুরু করেছে। পাম্পে চাহিদার অর্ধেক তেল পাওয়া যাচ্ছে। এতেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’
বেনাপোল আমদানি রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল। প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে ৩৫০-৪০০ ট্রাক পণ্য আমদানি ও ২৫০-৩০০ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়। জ্বালানি তেলের দাম না বাড়লেও ট্রাক মালিকরা হঠাৎ করে ২ এপ্রিল থেকে ভাড়া বাড়িয়েছেন কমপক্ষে ৫-৭ হাজার টাকা। এতে ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তারা বলেছেন, ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে তাদের পণ্যের দামও বাড়াতে হবে। যার প্রভাব ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়বে।’
এ ব্যাপারে যশোর চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম সম্পাদক ও আমদানিকারক এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, ‘বাজারে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। কিছু অসাধু ব্যক্তি তেলের মজুদ করছে। এ কারণে পাম্পগুলোকে গ্রাহক সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ট্রাক ভাড়া বাড়িয়েছেন মালিকরা। এতে সব জিনিসের দাম বেড়ে যাবে।’