নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের অন্যতম বাধা নবগঙ্গা নদী। নদীর ওপর সেতু না থাকায় লোহাগড়ার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে জেলা শহরে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ দুর্ভোগ কমাতে ফেদি বাজার এলাকায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে বারবার সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তি বাতিল করেছে এলজিইডি। এখন বাকি কাজ শেষ করতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএলকে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দুদফা সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় দেয়া হলেও কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে ঠিকাদারের মৃত্যুতে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
এদিকে কাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা করে চুক্তি বাতিল করেছে এলজিইডি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু না থাকায় ফেদি বাজারের ঘাটে দুটি ছোট নৌকায় যাত্রী ও মালাপত্র পারাপার করা হয়। ব্যস্ত সময়ে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ। ঘাট পার হয়ে অন্তত দুই হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে পারাপার আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামূল কবীর বলেন, ‘অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে ৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।’ দ্রুত কাজ শুরু করে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার আশা করছেন তারা।