ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৫ জন প্রার্থী। এসব আসনের কোনোটিতে বিএনপির সঙ্গে ১১ দলীয় জোট, আবার কোনোটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই জমে ওঠার আভাস রয়েছে। চলছে প্রার্থীদের সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ। পোস্টার না থাকায় প্রচারণায় ব্যবহার হচ্ছে ব্যানার ও লিফলেট। মাইকিংয়ে সরগরম পুরো জেলা।
সর্বশেষ কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পেরে ১৬ বছর একপ্রকার কোণঠাসা ও মাঠে অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। এবার ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সুযোগ নিতে তৎপর সবাই।
কচুয়া উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও দলের কেন্দ্রীয় সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মূলত তার সঙ্গেই জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী আবু নছর মো. মকবুল আহমেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি প্রার্থী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘অতীতে আমি নির্বাচিত হয়ে কচুয়াবাসীর উন্নয়নে কাজ করেছি। মন্ত্রী হিসেবে এলাকার পাশাপাশি গোটা দেশের জন্য কাজ করেছি। বহু মামলা-হামলার শিকার হয়েও আমি এখন পর্যন্ত কচুয়ার জনগণের পাশে আছি এবং থাকব।’
জামায়াতে ইসলামীর মকবুল আহমেদ এরই মধ্যে ব্যাপক গণসংযোগের সূত্রে কচুয়ার ভোটারদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করার জন্য কাজ করছে।’
চাঁদপুর-১ আসনে অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন এনায়েত হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ), হাবিব খান (জাতীয় পার্টি), মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন (ইসলামী ফ্রন্ট) ও মোহাম্মদ আজাদ হোসেন (গণফোরাম)।
মতলব উত্তর ও দক্ষিণ নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আট প্রার্থী। এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে ১১ দলীয় জোটের এলডিপি প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেনকে। বিএনপির জালাল উদ্দিন বলেন, ‘শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়, আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। বর্তমানে দলের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি। নির্বাচিত হলে এলাকার সামাজিক, ধর্মীয় সব কাজসহ উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করব।’
এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন বিএম গোলাপ হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ), মানসুর আহমদ সাকী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এমরান হোসেন মিয়া (জাতীয় পার্টি), মো. ফয়জুন্নূর (বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি), নাসিমা নাজনিন সরকার (বাংলাদেশ লেবার পার্টি) ও মো. এনামুল হক (নাগরিক ঐক্য)।
সদর ও হাইমচর নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৩ আসনে সাত প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির জেলা সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর আমি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম। দল সে বিবেচনায় আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ই আমার নেতাকে উৎসর্গ করব।’
এ আসনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে নির্বাচন করছেন জামায়াতের প্রার্থী দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাজাহান মিয়া। এর আগে তিনি ২০১৪ সালে সদর উপজেলা পরিষদ থেকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন পাঁচ সাংবাদিক। তারা হলেন মো. শাহজাহান মিয়া (জামায়াত ইসলামী), মো. জাকির হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ), এএইচএম আহসান উল্ল্যাহ (বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট), শেখ মো. জয়নাল আবেদীন (বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন), সেলিম আকবর (গণফোরাম) ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি)।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৪ আসনে প্রার্থী রয়েছেন আটজন। এখান থেকে বিএনপির পক্ষে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজস্ব ও ব্যাংকিং বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারুনুর রশীদ। তাকে মনোনয়ন দেয়ায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ হান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন, তাকে প্রতীক দেয়া হয়েছে চিংড়ি। এ আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। ধারণা করা হচ্ছে চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে। অন্য প্রার্থীরা হচ্ছেন মকবুল হোসাইন (ইসলামী আন্দোলন), মুনির চৌধুরী (গণফোরাম), মাহবুব আলম (জাতীয় পার্ট), জাকির হোসেন (স্বতন্ত্র) ও আব্দুল মালেক মকবুল (ইসলামী ফ্রন্ট)।
শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় প্রার্থী। বিএনপির ভেতর অনৈক্য থাকলেও এবার দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক জেলা সভাপতি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মমিনুল হক। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ দলীয় জোটের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী মো. নেয়ামুল বশির। এ আসনে আরো আছেন মোহাম্মদ আলী (ইসলামী আন্দোলন), মির্জা গিয়াসউদ্দিন (জাতীয় পার্টি), মাহমুদ হাসান নয়ন (ইনসানিয়াত বিল্লাল বাংলাদেশ) ও বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী (ইসলামি ফ্রন্ট)।
আট উপজেলা, সাত পৌরসভা, ৮৯ ইউনিয়ন ও ১৩৬৫টি গ্রাম নিয়ে গঠিত চাঁদপুরের পাঁচ সংসদীয় আসন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুসারে, জেলার মোট ২৩ লাখ ৩১ হাজার ২৩৫ ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী, ১১ লাখ ২৯ হাজার ৮৭৪ জন। পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ১ হাজার ৬৪৪ জন।