বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা থাকলেই যে সে স্বৈরাচার হবে তা নয়। এটি ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে। শুধু আইন পরিবর্তন করলেই সবকিছু সঠিক হয়ে যাবে না।
আজ (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারে দ্বিতীয় পর্বে তিনি এ কথা বলেছেন।
সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের কিছুটা মতপার্থক্য হচ্ছে। যেমন— এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা বা দলের প্রধান থাকতে পারবেন না, এরকম একটা প্রস্তাব এসেছে। সেখানে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, এক ব্যক্তি তিন পদে একই সঙ্গে থাকলে তা স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরির সুযোগ দেয় কিনা।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, একজন ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, থাকবেন না। এরকম আরো যে বিষয়গুলো আছে, এগুলো বাংলাদেশে যখন স্বৈরাচার ছিল তাদের মুখের উপরে, তাদের চোখের দিকে চোখ রেখে আমরা বিএনপিই বলেছিলাম।
২০২৩ সালে বিএনপির দেয়া ৩১ দফায় রাষ্ট্রপতি- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথা বলা হলেও এখন কেন আপত্তি— এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যেটাতে বলেছিলাম, আমরা সেখানেই এখনো আছি। যতটুকু ভারসাম্য হওয়া উচিত, যে যে বিষয়ে যতটুকু বিবেচনা করা উচিত, আমরা সে বিষয়ের মধ্যে এখনো কমবেশি আছি। আমরা অবস্থান পরিবর্তন করিনি।
তিনি আরো বলেন, আমরা তখনো বলিনি যে এক ব্যক্তি তিন পদে থাকতে পারবে না। এটা অন্যরা কেউ বলেছে যে, এক ব্যক্তি তিন পদে থাকতে পারবে না। আমরা মনে করি না যে, এটাতে স্বৈরাচারি হওয়ার কোনো কারণ আছে। আমরা তো দেখেছি, স্বৈরাচারের সময়ও এবং তার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু তাদের দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি ছিল। দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি নিয়ে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পাল্টে ফেলেছে। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখেনি।
তারেক রহমান বলেন, ২০০১ সালে বিএনপিরও দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি ছিল। বিএনপি তো চেঞ্জ করেনি। যেহেতু জনগণ মনে করে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে; দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি থাকার পরেও বিএনপি তা পরিবর্তন করেনি। কাজেই, এক ব্যক্তির হাতে থাকলেই যে স্বৈরাচর হবে তা নয়। এটি নির্ভর করে ব্যক্তির উপর। শুধু আইন পরিবর্তন করলেই সবকিছু সঠিক হয়ে যাবে না।