জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার জামায়াত আর এখনকার জামায়াত এক না। বহুবার জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র নীতি পদ্ধতি বদল হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগর শাখা এ সমাবেশের আয়োজনে করে।
সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পাকিস্তান আমলের রাজনেতিক প্রেক্ষাপটে তখনকার রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক পলিসির ব্যাপারে অনেক আলোচনা বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু বর্তমান গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রামকে শ্রদ্ধার সঙ্গে ধারণ করা হয়। এমনকি দলটির সদস্য হতে হলে দেশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দেয়া বাধ্যতামূলক।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, একটি জাতি যদি স্বাধীনতার ৫০ বা ৬০ বছর পরেও পুরনো বিতর্কে বিভক্ত থাকে, তবে সে জাতির এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকলে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। আমাদের পর স্বাধীন হওয়া অনেক দেশ- যেমন মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুর, আজ অনেক এগিয়ে গেছে, কারণ তারা বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদের সমাপনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে একই সুর আমাদের আশান্বিত করেছে। আমরা এখন সামনে যেতে চাই। তাহলেই আমরা নতুন প্রজন্মকে নতুন ইতিহাস দিয়ে যেতে পারব।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিল-২০২৬ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। এটা সংশোধন করা উচিত। এত সাংবিধানিক পরিবর্তনের পরও একটা মহল এ বিতর্ক জিইয়ে রাখতে চান। এটা দেশপ্রেম বা স্বাধীনতার প্রেম না, জাতিকে বিভক্ত করার বিদেশী ষড়যন্ত্রের অংশ। এ দুরভিসন্ধি থেকে জাতিকে বেরিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা এটিএম মাসুম, মহানগরীর প্রধান উপদেষ্টা কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।