নওগাঁর ধামইরহাট থানা হেফাজতে থাকা ট্রাংক ভেঙে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বের করার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেছে জেলা পুলিশ। প্রশ্নপত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা, অথবা গোপনে তা ফাঁস করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ পৃথকভাবে তিন সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে উভয় কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত ১৭ জুন একটি ট্রাংকে করে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ধামইরহাট থানায় পাঠানো হয়। ট্রাংকটি রাখা হয় থানার একটি হাজতখানায়। এরপর ১৯ জুন সকালে উপজেলা পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা প্রশ্নপত্র পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, ট্রাংকটির তালা খোলা এবং প্রশ্নপত্র বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
উপজেলা পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও ধামইরহাট সরকারি এমএম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ট্রাংকে আমাদের কলেজ কেন্দ্রের ইতিহাস দ্বিতীয় পত্রের ৭০ নম্বরের লিখিত অংশের ৫০ সেট প্রশ্নপত্র ছিল। ট্রাংকটি খোলা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার ভেতর থেকে প্রশ্নপত্র বের করা হয়। বাইরে দুটি ছেঁড়া প্রশ্নপত্রও পড়ে ছিল।’
এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার সাফিউল সারোয়ার জানান, থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রশ্নপত্র বাইরে ছড়ায়নি। তিনি বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে পত্নীতলা পুলিশ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলামকে প্রধান করে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত করছে এবং তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।’
পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘ঘটনার রাতে হত্যা মামলার এক আসামিকে ওই হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সেই সিলগালা ভেঙে ট্রাংকের তালা খুলেছে এবং প্রশ্নপত্রগুলো ছিঁড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে। তার উদ্দেশ্য জানার জন্য নিয়মিত মামলা দায়ের করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ধামইরহাট থানার এক সাব-ইন্সপেক্টর ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অন্য কারো দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
অন্যদিকে ঘটনার প্রশাসনিক তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাদিয়া আফরিনকে প্রধান করে পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল ধামইরহাট থানায় গিয়ে তদন্ত করবে।’