ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরে ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট আসনের কেন্দ্রগুলোয় ব্যালট পেপার-বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। টানা প্রচার-প্রচারণা শেষে ভোটের জন্য প্রস্তুত লক্ষ্মীপরের চারটি সংসদীয় আসন। আর এ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হলরুম থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম গুলো বিতরণ করা হয়। আর সকালে পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশের নির্বাচনী প্রস্তুতি প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, চারটি সংসদীয় আসনে ৪৯৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছে। সে অনুপাতে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে নিরাপত্তায় ভোট দিতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কোন ধরনের মব সৃষ্টি বা বিশৃঙ্খলা না হয়, সে দিকে কঠোর নজরদারী দিতে হবে।
লক্ষ্মীপুরের চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনীতিক দল ও স্বতন্ত্রসহ ২৯ প্রার্থী। ভোটার রয়েছেন ১৬ লাখ ৩৭ হাজার ৯৫৬জন।
এদিকে লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৯৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১৫টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৯৮টি গুরুত্বপূর্ণ আর ৮৩টিকে সাধারণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অতি গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এসব কেন্দ্রে পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। যার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে সেসব কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
তিনি আরো জানান, লক্ষ্মীপুর জেলায় ১০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য ও ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পুলিশের ৩৭টি মোবাইল টিম, ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। এছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় ৭৩২ জন সেনাবাহিনী, ৪০ জন বিমান বাহিনীর সদস্য, ২শ’ বিজিবি সদস্য, চর এলাকায় ৩২ জন কোস্টগার্ড, সেই সঙ্গে র্যাব ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন থাকবে।