রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি অঞ্চলের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের কেন্দ্র।’
গতকাল ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশালী এলাকায় রাষ্ট্রপতি ফলক উন্মোচন ও ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
প্রায় ৮৬ একর জমির ওপর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে বলে বঙ্গবভনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ভিত্তি স্থাপনের পর রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে অঙ্গীকার, সেই অঙ্গীকার পূরণ করে আজ এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা সম্ভব হলো। আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানটি শিল্প মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের কাছ থেকে পেয়েছেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি সেজন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। তারা অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যা করা দরকার, তা করেছেন। তারা বলেছেন, এ কাজগুলো দ্রুত সমাপ্ত করবেন।’
দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ শুরু হবে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোর নকশা হবে, নির্মাণকাজও দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। আমাদের এ এলাকার মানুষের জন্য এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের দিন। আনন্দ এজন্য যে আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি এ এলাকাতে উচ্চ শিক্ষার প্রসার ঘটানোর। আপনাদের সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সুযোগ পাবেন।’
ফলক উন্মোচন ও ভিত্তি স্থাপন শেষে রাষ্ট্রপতি সার্বিক উন্নতি কামনা করে মোনাজাত ও দোয়া করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবিব, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ইসরাফিল শাহিন প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মহেশালী এলাকায় ৮৬ একর জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে উঠছে। এখনো এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের দাবির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
স্থানীয় জনগণকে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে এর উন্নয়ন ও সুরক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এসেছে। তাই এর উন্নয়ন ও সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল জানান, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজও দ্রুত নির্মাণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের মতবিনিময়: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে গতকাল সকালে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গণতন্ত্র, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।’ তিনি মফস্বলভিত্তিক সাংবাদিকদের তৃণমূল ও প্রান্তিক মানুষের কথা নিষ্ঠার সঙ্গে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এবং ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা স্কাউট সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎ: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলা স্কাউটের নেতারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল রাষ্ট্রপতির বাসভবনে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও স্কাউটের মাধ্যমে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলায় এক লাখ চারাগাছ রোপণের উদ্বোধন করেন।
বঙ্গভবন থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জেলা স্কাউটের প্রশিক্ষক আঞ্জুমানআরা বেবি ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান মিঠুর নেতৃত্বে স্কাউট সদস্যদের সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তরুণদের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনা গড়ে তোলাই হোক স্কাউট আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।’