কুড়িগ্রামে বেশির ভাগ চরে নেই কমিউনিটি ক্লিনিক

কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় চরাঞ্চল রয়েছে চার শতাধিক।

কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় চরাঞ্চল রয়েছে চার শতাধিক। এসব চরে বসবাস করছে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। চরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ৪০০টি চরে নেই কমিউনিটি ক্লিনিক। এসব চরের মানুষ পার্শ্ববর্তী চরের কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নেয়। উপজেলা শহর বা জেলা শহরের নিকটবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসা পেলেও বঞ্চিত হচ্ছে দুর্গম চরের বাসিন্দারা। কাছাকাছি কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক না থাকায় সহজে সরকারি চিকিৎসার সুযোগই পাচ্ছে না তারা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলায় ২৯৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে চরাঞ্চলে রয়েছে মাত্র ৫০টি। এর মধ্যে নদীভাঙনে বিলীন হওয়া ছয়টি কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা চলছে বিকল্প উপায়ে। 

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. মনজুর এ মুর্শেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলার সব উপজেলাতেই চরাঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে যেসব চরে কমিউনিটি ক্লিনিক নেই, সেসব চরের মানুষ পার্শ্ববর্তী চরের কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নেয়। আর সদর উপজেলা, উলিপুর, রৌমারী, চিলমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার যেসব দুর্গম চর রয়েছে, নদীভাঙনের কারণে সেখানে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তবে সেসব চরের বাসিন্দারা যাতে সরকারি চিকিৎসাসেবা পায় তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’

চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, মূলত যাতায়াতের ভোগান্তির কারণে জটিল কোনো রোগ না হলে হাসপাতালে যায় না চরের মানুষ। সাধারণ রোগের চিকিৎসা করায় গ্রাম্য চিকিৎসকের দেয়া ওষুধেই। যদিও এসব চিকিৎসকের চিকিৎসা বিষয়ে নেই তেমন প্রশিক্ষণও।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঝুনকার চরের বাসিন্দা মাইনুদ্দিন জানান, তাদের চরটিতে শিশুসহ এক হাজার মানুষ বসবাস করছে। চরটি ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ায় নৌকায় ব্রহ্মপুত্র নদে প্রায় ৩ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে যাত্রাপুর হাটে যেতে হয়। তারপর সেখান থেকে ৮-১০ কিলোমিটার সড়কপথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়। এতে যাতায়াতের খরচও বেশি পড়ে, আবার সময়ও বেশি লাগে। এক কথায় সকালে বের হলেও সময়মতো এসে হাসপাতালের চিকিৎসককে দেখানো সম্ভব হয় না। আবার জেলা শহরের বাইরে চিকিৎসককে দেখালেও ফি ও পরীক্ষা করাতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়। কিন্তু সেদিন আর চরে ফিরে আসা সম্ভব হয় না। এজন্যই বড় কোনো রোগ না হলে গ্রামের চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করেন তারা।

উলিপুর উপজেলার মুসার চরের মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের চরটি নতুন। পাশে আরো কয়েকটি নতুন চর রয়েছে। এখানে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই। আমরা বাজারে গেলে জ্বরসহ অন্যান্য সাধারণ রোগের কিছু ট্যাবলেট কিনে এনে বাড়িতে রাখি। সেটা দিয়েই সাধারণ রোগের চিকিৎসা করি নিজেরাই। আর বড় ধরনের রোগ হলে তখন রোগীকে প্রথমে কাঁধে করে নৌঘাটে, তারপর বাজারে ডাক্তারের কাছে অথবা হাসপাতালে নিয়ে যাই। তবে বেশি কষ্ট হয় বন্যার সময়।’

আরও