সিপিডি কার্যালয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে প্রয়োজন নাগরিক সমাজের বিস্তৃত ভূমিকা

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন সভায় বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় নাগরিক পরিসরের সুরক্ষা ও তা বড় করার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, শুধু প্রকল্পভিত্তিক কাজ না করে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া উচিত

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণকে স্থায়ী করতে হলে নাগরিক সমাজের কাজের পরিধি আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রাজধানীর সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় আজ বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউএনওপিএস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সিপিডি যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন সভায় বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় নাগরিক পরিসরের সুরক্ষা ও তা বড় করার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, শুধু প্রকল্পভিত্তিক কাজ না করে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া উচিত। অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিকাঠামো গড়ে তুলতে তথ্যভিত্তিক সংলাপের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, সংস্কারের অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন।

সভায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান জানান, জুলাই পরবর্তী সময়ে নাগরিক পরিসর বাড়াতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো হয়েছে। এনজিওগুলোর কাজের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যুরো এরই মধ্যে কিছু বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। নাগরিক সমাজকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো সব সময় প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। সভায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে কাজের পরিবেশ আরো সহজ করার দাবি জানান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের কর্মসূচি কর্মকর্তা জুল সাইৎজ এবং ইউএনওপিএসের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরলিধরন আলোচনায় অংশ নেন। তারা বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক উন্নয়নের জন্য প্রাণবন্ত নাগরিক পরিসর অপরিহার্য। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সংলাপ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন রোডম্যাপে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. কাজী মাহমুদুর রহমান ও ফকরুদ্দীন আল কবির। এ সময় তারা নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করেন। তারা বলেন, রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের মধ্যে একটি শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করা প্রয়োজন। আলোচনা থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০২৬-২৮ সালের রোডম্যাপ প্রণয়নে কাজে লাগানো হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে জানানো হয়, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের নীতিনির্ধারণী সংলাপ ভবিষ্যতে আরো বেগবান করা হবে।

আরও