১২-১৫ ফুট উচ্চতার একেকটি উটের দাম হাঁকা হচ্ছে ২২-৩০ লাখ টাকা। উটগুলো দেখতে প্রতিদিনই সীমান্ত এলাকার ওই খামারে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। যশোরের সীমান্তবর্তী পুঁটখালী গ্রামের এ খামার এখন স্থানীয়দের অন্যতম আকর্ষণ। বিশালদেহী পাঁচটি উট ঘিরে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ দেখছেন, কেউবা মরুভূমির প্রাণীটির সঙ্গে মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন।
দেড় বছর আগে বাণিজ্যিকভাবে উট পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব থেকে উটগুলো আমদানি করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নিয়মিত পরিচর্যা, চিকিৎসা এবং দেশীয় খাবার খাওয়ানো হচ্ছে উটগুলোকে। বর্তমানে ১২-১৫ ফুট উচ্চতার প্রতিটি উটের দাম হাঁকা হচ্ছে ২২-৩০ লাখ টাকা। এরই মধ্যে ২৬ লাখ টাকায় একটি উট বিক্রি হয়েছে বলেও জানান তারা।
খামারটির পরিচালক শহিদুল্লাহ জানান, প্রতিদিন দুই বেলা খাবার হিসেবে উটগুলোকে খড় দেয়া হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট পাত্রে পানির সঙ্গে ভুসি ও খৈল মিশিয়ে খেতে দেয়া হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে তারা। দেশের পরিবেশে উট লালন-পালন করা ভালোভাবেই সম্ভব বলে মনে করেন তারা। তিনি জানান, উটের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন খামারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। অধিক দাম হওয়ায় অনেক ক্রেতাই কেবল উট দেখতে এসেই ফিরে যাচ্ছেন। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের হাটে উটগুলো নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, ‘উট যেহেতু মরুভূমির প্রাণী, আমাদের দেশে তো মরুভূমি নেই। আমাদের সমতল ভূমি, কিছু পাহাড়ি এলাকা আছে। এখানে প্রাকৃতিক খাদ্য, অর্থাৎ ঘাস বা দানাজাতীয় খাদ্য দিয়েই উট পালন করা যায়। সেক্ষেত্রে আমি বলব, যারা উট পালনে ভয় পাচ্ছেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনি নিঃসন্দেহে উট পালন করতে পারেন। উট পালন অবশ্যই লাভজনক।’