বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক

রুগ্‌ণ কারখানাগুলোকে ভালো অবস্থানে আনতে দিকনির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

ঔষধ শিল্পের বিকাশ, উন্নয়ন, রফতানি বৃদ্ধি এবং সুলভ মূল্যে মানুষের কাছে ওষুধ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির প্রতিনিধিরা।

একই সঙ্গে খারাপ অবস্থায় থাকা ওষুধ কারখানাগুলোকে ভালো অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার কথাও তুলে ধরেছেন তারা।

গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বাপি) প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। প্রায় সোয়া ২ ঘণ্টা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সমিতির সভাপতি এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এমএ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রমুখ। শিল্প মালিকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তপন চৌধুরী, সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান এম মোসাদ্দেক হোসেন, সমিতির মহাসচিব ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান এবং এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি ও ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান।

বৈঠক সম্পর্কে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘শিল্পের বিকাশ, উন্নয়ন, রফতানি বৃদ্ধি এবং মানুষের কাছে ওষুধ যাতে সুলভ মূল্যে পৌঁছানো যায়, এসব বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। অনেক কারখানা যেগুলো রুগ্‌ণ হয়ে গেছে, সেগুলোও কীভাবে আরো ভালো অবস্থানে নিয়ে আসা যায়, সে ব্যাপারেও তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘অর্থ উপদেষ্টাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনিও জানালেন আমাদের ওষুধ রফতানি করতে যে সমস্যা হচ্ছে, তা দূর করতে সরকার আমাদের সহায়তা করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও সচিব সবার সঙ্গে খুব খোলামেলা আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তারা সব বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করতে চান। যেসব নীতিসহায়তা দেয়া দরকার, সেগুলো দিতে চান, যাতে ঔষধ শিল্প তার যে সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।’

ঔষধ শিল্পের রফতানি সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওষুধ খাতে যে বিশাল রফতানি সম্ভাবনা রয়েছে সে সম্ভাবনাও আমরা কাজে লাগাতে পারব। বর্তমানে আমরা বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশে ওষুধ রফতানি করি। এ রফতানির পরিমাণ এখন যদিও কম, কিন্তু ১৪০টি দেশে এখন রফতানির পরিমাণও বাড়বে। কারণ আমরা শুধু ওষুধই না, ওষুধের সঙ্গে ভ্যাকসিন, আমাদের অ্যাকটিভ র-ম্যাটেরিয়াল, বায়োলজিকালস—এসব জিনিসই আমরা রফতানি করতে পারব। অচিরেই বাংলাদেশের ওষুধ রফতানির ক্ষেত্রে এবং বাংলাদেশের উচ্চমানের ওষুধ যেন মানুষ পেতে পারে সে বিষয়ে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ আমরা আশা করছি।’

ঔষধ শিল্পের প্রতিবন্ধকতা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কী প্রত্যাশা ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের যা যা প্রতিবন্ধকতা আছে, সেগুলো তারা নিজে থেকেই বলেছেন। যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সব প্রতিবন্ধকতাই ওনারা অপসারণ করবেন।’

বন্ধ কারখানা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেসব কারখানা খারাপ অবস্থায় রয়েছে, তারা যাতে ভালো অবস্থায় আসতে পারে, এ বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নেবে।’

নীতিসহায়তার ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেসব নীতিসহায়তা দেয়া দরকার, এগুলো খুবই কারিগরি বিষয়। এর মধ্যে ম্যাচিউরিটি লেভেল থ্রি যাতে আমরা অর্জন করতে পারি সে বিষয় রয়েছে। আমাদের বায়োলজিকসে যেসব সর্বশেষ নির্দেশিকা রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নসহ অনেক কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি যেগুলো হয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন আমলে নেবেন এবং সে অনুযায়ী দেশের ঔষধ শিল্পকে দিকনির্দেশনা দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মুক্তাদির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী গভীর মনোযোগ দিয়ে পুরো ব্যাপারটা শুনেছেন এবং বাস্তবায়নের জন্য একেবারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।’

এলডিসি উত্তরণের পর ট্রিপস-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরে আমরা কীভাবে মোকাবেলা করব, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। যেসব ওষুধের নিবন্ধন এতদিন বন্ধ ছিল, সেগুলোকে তাড়াতাড়ি খুলে দিতে বলেছেন। যাতে অতি উচ্চমূল্যে পরে মানুষকে আর ওষুধ না কিনতে হয়। এ ওষুধগুলো দেশেই যাতে তৈরি হয় এবং মানুষ সুলভ মূল্যে সেটা পায়। আমাদের সব সমস্যা তিনি অতিশয় মনোযোগের সঙ্গে শুনে সবকিছুর দ্রুত সমাধান দিয়েছেন।’

আরও