বাগেরহাটে নির্মাণের এক বছরেই টেকসই বাঁধে ধস

জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের রক্ষায় উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) আওতায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের রক্ষায় উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) আওতায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থেকে শরণখোলা পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ব্যয় হয় ২৪২ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ১০ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) হস্তান্তর করা হয়। বছর না যেতেই সাত কিলোমিটারের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, ব্লক ধস ও বাঁধের ওপর দুই শতাধিক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বাগেরহাট। সরকারি হিসাবে ৯০৮ জনের প্রাণহানি হয়েছিল সে সময়। তাদের দাবি ছিল টেকসই বাঁধ নির্মাণ। বাঁধ নির্মাণ হলেও এক বছর না যেতেই ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের জিলবুনিয়া গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ‘নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়েছি। এরপর সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ওয়াপদা বাঁধ। আমাদের দাবি ছিল টেকসই বাঁধ নির্মাণ। এক বছরও হয়নি বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে বাঁধে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ব্লক ধস ও ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’

রায়েন্দা গ্রামের ডালিম বলেন, ‘রায়েন্দা থেকে বগী পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক স্থানে বাঁধে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মাটির পরিবর্তে বালি ব্যবহার করায় টেকসই বাঁধের নাজুক অবস্থা।’ দ্রুত নদী শাসন করে বাঁধ রক্ষার দাবি জানান তিনি।

বাগেরহাট পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কৃষ্ণেন্দু বিকাশ সরকার বলেন, ‘বাঁধের ওপর যে স্থানে গর্ত হয়েছে, সেগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ব্লক ধসে যাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে বাঁধ। আমরা চেষ্টা করছি ভাঙন রোধের। নতুন প্রকল্পের মাধমে ভাঙন রোধে কাজ করা হবে।’

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, ‘দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পাউবো কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। শরণখোলা উপজেলার তিন পাশ নদীবেষ্টিত। নদী শাসন করে দ্রুত বাঁধ রক্ষা করা না হলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এ উপজেলা।’

সার্বিক বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মাদ আল বেরুনী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘৬২ কিলোমিটার বাঁধের সাত কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাঁধের পাশে থাকা নদীর গভীরতা বাড়ছে। নদীর স্রোত বাড়ায় ভাঙন সৃষ্টি হয়। ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া গর্তগুলোর মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। নদী শাসনের একটি প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে ভাঙন রোধে কাজ করা হবে।’

আরও