ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণের কনসার্ট হচ্ছে না

এমপির মধ্যস্থতায় সমঝোতা

বৈঠকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে সাত-আটজন সদস্য অংশ নেন। অন্যদিকে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদত হোসেন ভূইয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতারাও যোগ দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য কনসার্ট নিয়ে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির মুখে সৃষ্ট জটিলতা স্থানীয় সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় অবসান হয়েছে। শনিবার রাতে সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের বাসায় উভয় পক্ষকে নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সমঝোতা হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয়, কলেজের মূল ক্যাম্পাসে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হবে। কনসার্টের পরিবর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বৈঠকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে সাত-আটজন সদস্য অংশ নেন। অন্যদিকে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদত হোসেন ভূইয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতারাও যোগ দেন।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য আব্দুল খালেক এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সরকারি কলেজ মাঠে কোনো কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে না। অশ্লীলতা হবে না—এ শর্তে ভেতরের মাঠে (দক্ষিণ ক্যাম্পাস) অনুষ্ঠান করার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে। নবীনবরণ ও আলোচনা সভা মূল ক্যাম্পাসে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দক্ষিণ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।’

কলেজের উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন বলেন, ‘দক্ষিণ ক্যাম্পাসে ছোট পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। মূল ক্যাম্পাসের পাশেই একই সময়ে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ খেলা চলছে। তাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আমরা সরিয়ে নিয়েছি।’

সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, ‘কলেজের লোকজন ও মাদরাসার ছাত্রদের নিয়ে আমরা বসেছিলাম। একটা সমঝোতা হয়েছে।’

বৈঠকের পর কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফেসবুক পেজে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ মাঠে কোনো ধরনের কনসার্ট হবে না, শুধু নবীনবরণ অনুষ্ঠান হবে’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেয়া হয়।

ওই পোস্টে বলা হয়, নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট স্থগিতের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছিল। পরে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষ তাদের কনসার্ট স্থগিতের দাবি মেনে নিয়েছে।

আরও