পাসের হার ও জিপিএ ৫

মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের পিছিয়ে পড়ার ব্যবধান বাড়ছে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এগিয়ে থাকার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

চলতি বছরও পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। একই সঙ্গে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের তুলনায় বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, পাসের হারে টানা ১৭ বছর ধরে ছেলেদের পেছনে ফেলছে মেয়েরা। গত পাঁচ বছরে এ ব্যবধান ক্রমেই বেড়েছে।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯ লাখ ১১ হাজার ছাত্রী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন। ফলে মেয়েদের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশে। অন্যদিকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৯ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪ ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন। ছেলেদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ৮ দশমিক ৮২ শতাংশীয় পয়েন্ট এগিয়ে। জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতেও একই চিত্র দেখা গেছে। এবার ৬৩ হাজার ৮৯৬ ছাত্রী জিপিএ ৫ পেয়েছে। বিপরীতে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫২ হাজার ৭৮০ ছাত্র।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার কমলেও ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের এগিয়ে থাকার ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ পড়েনি। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিগত কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৯ সালে সর্বশেষ ছেলেরা পাসের হারে মেয়েদের চেয়ে এগিয়ে ছিল। এরপর টানা ১৭ বছর ধরে এ অবস্থান ধরে রেখেছে মেয়েরা। ২০২২ সালে ছেলেদের পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৮৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যবধান ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। পরের বছর ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশীয় পয়েন্টে। ২০২৩ সালে ছেলেদের পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ, আর মেয়েদের ৮১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

২০২৪ সালে ছেলেদের পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৫৭ শতাংশ, বিপরীতে মেয়েদের ৮৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ব্যবধান ছিল ২ দশমিক ৯০ শতাংশীয় পয়েন্ট। আর ২০২৫ সালে ছেলেদের পাসের হার ৬৫ দশমিক ৮৮ শতাংশের বিপরীতে মেয়েদের ছিল ৭১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। সে বছর ব্যবধান দাঁড়ায় ৫ দশমিক ১৫ শতাংশীয় পয়েন্টে। চলতি বছর এ ব্যবধান আরো বেড়ে ৮ দশমিক ৮২ শতাংশীয় পয়েন্টে পৌঁছেছে।

শুধু পাসের হার নয়, জিপিএ ৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েদের এগিয়ে থাকার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সালে ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৬ ছাত্র জিপিএ ৫ পেলেও ছাত্রীদের মধ্যে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৪৬। অর্থাৎ ওই বছর ছেলেদের চেয়ে ২৭ হাজার ২৯০ বেশি মেয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। ২০২৩ সালে জিপিএ ৫ পাওয়া ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৮৪ হাজার ৯৬৪। বিপরীতে ছাত্রীদের মধ্যে এ সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৬১৪। পরের বছর ছাত্রদের মধ্যে ৮৩ হাজার ৩৫৩ জন এবং ছাত্রীদের মধ্যে ৯৮ হাজার ৭৭৬ জন জিপিএ ৫ পায়।

গত বছর জিপিএ ৫ পাওয়া ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৬৫ হাজার ৪১৬। বিপরীতে ছাত্রীদের মধ্যে এ সংখ্যা ছিল ৭৩ হাজার ৬১৬। অর্থাৎ গত বছরও জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে ৮ হাজার ২০০ মেয়ে এগিয়ে ছিল। চলতি বছর সামগ্রিকভাবে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও মেয়েদের এগিয়ে থাকার চিত্র অপরিবর্তিত রয়েছে।

আরও