জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। এ সরকার অবশ্যই আইনের শাসন নিশ্চিত করবে এবং জুলাই-আগস্টের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনবে।’
গতকাল রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ ‘মহাসংলাপ: ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জাতীয় পুনর্মিলন’ সেশনে দেয়া বক্তৃতায় ডেপুটি স্পিকার এ কথা বলেন। কায়সার কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশে ৫ আগস্ট বা তার পূর্ববর্তী সময়ের দিনগুলোতে যা ঘটেছিল তা কেবল সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোর এক মৌলিক পুনঃসংজ্ঞায়ন। এ সময় নাগরিকরা আইনের শাসনকে উপেক্ষা করা ও নাগরিক স্বাধীনতা দমন করা শাসন ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। জনগণ লড়াই করেছিল গণতান্ত্রিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য। তারা নজির স্থাপন করতে চেয়েছিল যাতে বাংলাদেশে আর কেউ কোনোদিন স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার দুঃসাহস না দেখায়।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধের লড়াইয়ে এমন সব শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন, যা স্বৈরাচারীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে রুখে দিতে সক্ষম। বাংলাদেশে আমরা বর্তমানে সেই নতুন ভিত্তিগুলো গড়ে তুলছি। আর এ প্রক্রিয়ায় রাজপথে যে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা গভীরভাবে সচেতন। আমরা এমন এক ভবিষ্যতের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে সরকার কাঠামোগতভাবেই জবাবদিহিতার আওতাভুক্ত থাকবে, যাতে স্বৈরতন্ত্রের অধ্যায়গুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।’
ওই সেশনে অংশগ্রহণ করেন সাউথ এশিয়া স্টাডিজ সেন্টার ইউনিভার্সিটি অব রাজস্থানের প্রফেসর করোরি সিং, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস ইউনিভার্সিটির গবেষক মাদালিৎসো জিলিলো ফিরি ও কলম্বিয়ার সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিকি সিঙ্গার।