কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদীর পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদ, ধরলা নদ, তিস্তা নদ ও দুধকুমার নদের পানি বাড়তে থাকলেও এখনো সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদী অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত তিনদিন ধরে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সময়ে দুধকুমার নদের পানি ৪ সেন্টিমিটার কমেছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি ২ থেকে ১৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে।

পানি বাড়তে থাকলে জেলার তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ নতুন করে বন্যা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর তীরবর্তী অন্তত ৩৫টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি নদী অববাহিকার কিছু পটল ও পাটক্ষেতে পানি ঢুকেছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে এসব ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়া পাড়া এলাকার আক্কাছ আলী জানান, কয়েকদিন ধরে দুধকুমার নদের পানি বাড়ছে। পানি বাড়ার কারণে ভাঙন শুরু হয়েছে। পরিবারগুলো ভিটেমাটিতে থাকা ঘর-বাড়ি ও গাছপালা সরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, এলাকাটি কয়েক বছর ধরে অব্যাহত ভাবে ভাঙ্গন চললে কেউ নজর দিচ্ছে না।

একই এলাকার আমিনা বেগম বলেন, নদী বাড়ির কাছে চলে এসেছে। তাই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছি। কোথায় যাব জানি না, জায়গা জমি নাই।

রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা রোস্তম আলী জানান, পানি আরো বাড়লে চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পড়বে। এতে চরে লাগানো বাদাম ও পাট ক্ষেতের ক্ষতি হবে। ঘর-বাড়িতে পানি উঠলে গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী আরো তিনদিন জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বাড়তে পারে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ভাঙন ঠেকাতে প্রায় ২৫টি স্থানে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ পেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। অনুমতি না থাকায় অন্যান্য এলাকাগুলোয় কাজ করা যাচ্ছে না।

আরও