পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত

ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আদালতের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত এই দুই আসনে নির্বাচনী কোনো কার্যক্রম চলবে না।’

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।

আজ শুক্রবার নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য জানান।

ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আদালতের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত এই দুই আসনে নির্বাচনী কোনো কার্যক্রম চলবে না।’

সংবাদ সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর থেকেই পাবনা-১ আসনটি পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা) নিয়ে গঠিত ছিল। অন্যদিকে, পাবনা-২ আসন গঠিত ছিল সুজানগর উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। নতুন গেজেটে সাঁথিয়া উপজেলাকে এককভাবে পাবনা-১ এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে মিলিয়ে পাবনা-২ আসন করা হয়।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম ও সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে গত ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।

হাইকোর্টের রায়ে পাবনা-১ থেকে বেড়া উপজেলার ওই অংশ বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ইসির সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে আসন দু’টি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশও দেয়া হয়।

পরবর্তীতে হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং নির্বাচন কমিশন পৃথক আবেদন করে। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।

এরপর গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ পাবনা-১ ও ২ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে গত ২৪ ডিসেম্বর ইসির জারি করা গেজেট স্থগিত করেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে।

আরও