টানা বর্ষণে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের মানুষ। দুদিন ধরে অব্যাহত ভারি বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটসহ অনেক বাসাবাড়ি ও অফিসে পানি প্রবেশ করেছে। গতকাল পাহাড়ধসে চারজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শহরের সিকদার পাড়া ও পূর্ব পল্যান কাটা এলাকায় পাহাড়ধসে শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জমিলা বেগম (৩০), সিকদার পাড়ার সাইফুলের ছেলে মো. হাসান (১০) ও মুহুরি পাড়ার লায়লা বেগম (৪৫)। এ ঘটনায় লায়লা শিশু সন্তান আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জমিলা বেগমের স্বামী করিম জানান, সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠেই নাশতা খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আচমকা পাহাড়ের মাটি ধসে চাপা পড়েন জমিলা। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে গতকাল রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী সৈকতপাড়ায় পাহাড়ধসে এক পরিবারের ছয়জন মাটিচাপা পড়ে। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাটি সরিয়ে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করলেও মিম নামের আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই এলাকার মো. সেলিমের মেয়ে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান জানান, বুধবার মধ্যরাত থেকে কক্সবাজার শহরে টানা বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ভোরে সিকদার বাজার এলাকায় সাইফুল ইসলামের বাড়ির ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। এতে মাটির দেয়াল ভেঙে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত লায়লা বেগমের মেয়ে ইয়াছমিন আক্তার জানান, তার মা দুপুরে ভাত খাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ পাহাড় ধসে রান্নাঘরের ওপর পড়লে তিনি মারা যান।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আরো দুদিন অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে শহরের কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বার্মিজ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শহরের নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন রয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, পানিবন্দি মানুষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলরদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।
আগামী শনিবার বিকাল পর্যন্তে আরো বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ২৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আজ ও কাল দুদিনই ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।’