চিড়িয়াখানার দুর্দশা

বুড়ো ও সঙ্গীহীন প্রাণীতে নিষ্প্রাণ

রংপুর চিড়িয়াখানা। নগরের সবচেয়ে পুরনো বিনোদন উদ্যান। একসময় পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটানোর স্থান ছিল এটি। পাঠ্যপুস্তকে পড়া বন্যপ্রাণীর সঙ্গে পরিচিত হতো শিশু-কিশোররা।

দিন অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিড়িয়াখানার অধিকাংশ প্রাণী বয়সের ভারে ন্যুব্জ। কয়েক বছর আগেই এসব প্রাণী গড় আয়ুকাল অতিক্রম করেছে। অনেকের সঙ্গী নেই। অথচ উর্বর প্রজননখ্যাত এ চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয়া একাধিক বাঘ ও সিংহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্যত্র। পশু সংকট, নতুন ও বিরল প্রজাতির পশু-পাখি না থাকায় চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ক্রমেই বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় কমছে দর্শনার্থীর উপস্থিতি। রয়েছে লোকবল সংকটও।

রংপুর চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, দেশের দুটি সরকারি চিড়িয়াখানার মধ্যে একটি রংপুর চিড়িয়াখানা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এ চিড়িয়াখানাটি নগরীর প্রাণকেন্দ্রে ২২ দশমিক ১৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ১৯৯১ সালে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তৎকালীন একজন ডেপুটি কিউরেটর, একজন জুনিয়র অফিসারসহ ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চিড়িয়াখানার দেখাশোনা করতেন। বর্তমানে আছেন মাত্র সাতজন। তিনজন অ্যানিমেল কেয়ারটেকারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন। ছয়জন গার্ডের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। বিনোদন কেন্দ্রের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য মালির প্রয়োজন হলেও কাউকে পদায়নই করা হয়নি। বিভিন্ন পদে মাস্টাররোলের কর্মচারী দিয়ে চলছে কার্যক্রম।

চিড়িয়াখানার একটি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শুধু প্রধান গেট বাবদ আয় হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। তাই চিড়িয়াখানার আয় বাড়লেও বিনোদনপ্রিয় মানুষের নিত্যনতুন প্রাণী দেখার আকাঙ্ক্ষা থাকছে অধরা। এদিকে চিড়িয়াখানায় নতুন পশুপাখির অভাব যেমন প্রকট হয়ে উঠেছে, তেমনি বিপরীত লিঙ্গের অভাবে অনেক পশুর প্রজনন করানো সম্ভব হচ্ছে না। অথচ একসময় চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয়া বাঘের ছয়টি এবং সিংহের চারটি শাবক পাঠানো হয়েছে ঢাকা চিড়িয়াখানাসহ অন্যত্র। এছাড়া প্রতি বছর হরিণের প্রজননের ফলে জন্ম নিচ্ছে হরিণশাবক।

বর্তমানে চিড়িয়াখানায় পশুপাখি আছে ২৫০টি। পশুপাখির মধ্যে বাঘ, অজগর সাপ, ঘোড়া, ইমু পাখি, জলহস্তী, কুমির, হরিণ, ময়ূর, বানর ও ঘড়িয়াল অন্যতম। তবে বর্তমানে সিংহ, কুমির, রাজধনেশ ও কেশওয়ারির কোনো জোড়া নেই।

চিড়িয়াখানার প্রধান গেটের টিকিট বিক্রেতা মো. রানা বলেন, ‘অনেক দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় ঢুকে বিরল পশুপাখি না দেখতে পেয়ে যাওয়ার সময় তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকেন।’

রংপুর জেলা ভেটেরিনারি অফিসার এবং চিড়িয়াখানার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘তিন মাস ধরে সিংহ দর্শনার্থীদের মাঝে প্রদর্শন করা হচ্ছে না। কারণ সিংহটি বয়সের ভারে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না। এখানে তিনি দায়িত্ব পাওয়ার অনেক আগেই জিরাফ আনার জন্য ঘর তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু জিরাফ আনা হয়নি। কিছুদিনের মধ্যে চিড়িয়াখানায় হাতি আসবে। এজন্য হাতির ঘর তৈরি করা হচ্ছে।‘ তিনি আরো বলেন, ‘আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে অর্থাৎ আগামী অর্থবছরে রংপুর চিড়িয়াখানায় সিংহ, জিরাফ, জেব্রা ও ভালুক আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।’

আরও