প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অবকাঠামো, পরিবহন, তথ্য ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ‘আর্টিকেল ৯ কমিটি’। জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদের (সিআরপিডি) ধারা ৯-এর আলোকে এ কমিটি গঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নারী নেতৃত্বাধীন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন বি-স্ক্যানের উদ্যোগে এবং সিএসআইডি ও সিডিডির সহযোগিতায় ‘ডিসেবিলিটি ইনক্লুসিভ সিভিক এনগেজমেন্ট (ডিআইসিই)’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি নাগরিকতা সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা জিএফএ ব্যবস্থাপনা করছে।
আর্টিকেল ৯ কমিটি একটি নাগরিক সমাজের নেতৃত্বাধীন বহুপক্ষীয় অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতার অধিকার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বোঝাপড়া বাড়ানো, পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলা এবং প্রবেশগম্যতার মানদণ্ড বাস্তবায়নে সমন্বয় ও জবাবদিহি জোরদার করা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন, নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সংস্থা, পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সিআরপিডির ধারা ৯ অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন এবং জীবনের সব ক্ষেত্রে পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণের জন্য অন্যদের সাথে সমতার ভিত্তিতে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে ভবন, সড়ক, পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত অন্যান্য স্থাপনা ও সেবা। একই সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা এবং জরুরি তথ্য ও সেবা প্রবেশগম্য করা।
প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা কেবল র্যাম্প নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবনের প্রবেশপথ থেকে টয়লেট, গণপরিবহন, ওয়েবসাইট, ইশারা ভাষা এবং সহজবোধ্য ও বিকল্প বিন্যাসে তথ্যপ্রাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির চাহিদা বিবেচনা করা। সার্বজনীন নকশার মাধ্যমে এসব ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রবীণ ব্যক্তি, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং সাময়িকভাবে চলাচলে অসুবিধার সম্মুখীন ব্যক্তিরাও উপকৃত হন।
বি-স্ক্যানের নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব বলেন, নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে সবার অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে বাংলাদেশকে সবার জন্য উপযোগী করতে এ প্লাটফর্ম জাতীয় স্তরে কাজ করার প্রয়াস নিবে।
কমিটির প্রাথমিক লক্ষ্য হলো প্রবেশগম্যতাকে একটি অধিকার এবং পরিকল্পনা ও সেবা প্রদানের অপরিহার্য অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে তুলে ধরা। এছাড়া এ অবকাঠামো, যোগাযোগ প্রযুক্তি, সব সেবা এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা চিহ্নিত করা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়ানো এবং সার্বজনীন নকশার প্রয়োগে অ্যাডভোকেসি করার মাধ্যমে সবার জন্য অভিগম্য বাংলাদেশ হিসেবে তৈরিতে অবদান রাখা।
সভায় বি-স্ক্যান, সিডিডি ও সিএসআইডি ছাড়াও ওয়াটারএইড, বাপা, বিআইপি, ব্লাস্ট, ব্র্যাক, ফ্রেন্ডশিপ, সিরাক, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, ডব্লিউডিডিএফ, এসএমএফ, এফবিসিসিআই ও মাসস্টুডিও এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।