কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের বুধবার রাতের সংঘর্ষের পর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই)
সকাল থেকেই হল ছাড়তে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে রাবির প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেটে ১৭ জুলাই থেকে হল বন্ধের ঘোষণা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে অনেকে যেতে পারেনি। তাদের সকালের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ কারো সমস্যা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রায় সব শিক্ষার্থীই হল ছেড়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বুধবার রাতে ১৭টি হলের প্রতিটিতে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন
শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। তাদের আজ সকালের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া
হয়েছে। পুরো ক্যাম্পাস এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। তারা আপাতত
ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন। আমরা চাইলে তারা সহযোগিতা করবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা
ব্যাগপত্র নিয়ে হল ত্যাগ করছেন। অনেক শিক্ষার্থী বাসায় চলে যাচ্ছেন, অনেকেই আবার
ক্যাম্পাসের বাহিরের মেসগুলোতে অবস্থান নিচ্ছেন।
শহীদ জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী নাজমুল বলেন, হল ত্যাগ করাটা
আমাদের জন্য খুব কষ্টকর। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল কিন্তু হল ত্যাগ করতে হবে কেন?
সকাল থেকেই হলের প্রহরীরা হল ত্যাগ করতে বারবার চাপ দিচ্ছেন। হঠাৎ করে কোথায় যাব?
আজ কোনো যানবাহনও চলবে না, তাই ক্যাম্পাসের বাহিরে কয়েকদিন থাকব। পরে পরিস্থিতি
শান্ত না হলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শের এ বাংলা হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, আজ ভোরে ঘুম
থেকে উঠেই ব্যাগ গুছিয়েছি। বাসা থেকে অনেক দুশ্চিন্তা করছে। দ্রুত বাড়ি পৌঁছালেই
স্বস্তি।
তবে হল ছাড়ার নির্দেশে বিপাকে পড়েছেন দূরদূরান্তের জেলা থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন ছাত্রী জানান, আজ সারা দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। বাসা রাজশাহী থেকে অনেক দূরে হওয়ায় তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
এ দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারীরা দিনপ্যাপী
শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। তবে রাজশাহী নগরীর বাস ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোবারক পারভেজ
জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সংলগ্ন এলাকায়
কোনো সহিংসতা ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা নেই। তবে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে
ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এখন ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জামিরুল ইসলাম। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পর ক্যাম্পাসে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তারা রাতে ক্যাম্পাসে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকি সব শিক্ষার্থী হল ছেড়েছেন। যে কয়েকজন হলে আছেন, তারাও দ্রুত হল ত্যাগ করবেন।