দেশের অর্থনীতিতে টেক্সটাইল খাতের বড় অবদান রয়েছে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে গত ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালাতে পারছে না টেক্সটাইল মিলগুলো। নানা সংকটে ৫০ শতাংশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ কয়েক মাসের তীব্র গ্যাস সংকটে মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৪০-৫০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে। এতে সুতা, কাপড় ও পোশাকের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। যার প্রভাব পড়ছে রফতানি আয়ে।
রোববার (২৩ মে) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ বলেন, টেক্সাটাইল খাত দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার সম্মুখীন। গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্রমাগত অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, ডলার সংকট, ব্যাংক সুদের হার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রফতানি পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক, রফতানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনার অস্বাভাবিক হ্রাস ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সংকট অন্যতম। টেক্সটাইল মিল এবং পোশাক খাতে হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহে কারখানাগুলোতে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা পরিস্থিতিতে সমস্যা ধীরে ধীরে প্রকট হচ্ছে।
এ সময় বিটিএমএর পক্ষ থেকে অবিলম্বে শিল্প খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, শিল্প খাত ও ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোয় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি প্রতিযোগিতাশীল ও টেকসই মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা প্ৰণয়ন, শিল্প খাতের গ্যাসের সংকট মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
আর বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেড়ে গেছে। গ্যাস সংকটের কারণে ৬০ শতাংশের বেশি উৎপাদন হচ্ছে না কারখানায়। তিন মাস সুদ না দিলেই ঋণখেলাপি করছে ব্যাংক। আবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধের ধমক দিচ্ছে সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই), বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই), ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি), বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিলেন ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিটিএলএমইএ) ও বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।