গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫ হাজার ১০২ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

আজ রোববার দুপুরে নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বাজেট ঘোষণা করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানম।

দেশের বৃহত্তম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫ হাজার ১০২ কোটি ৩৫ লাখ ৮ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে নগর উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বৈদেশিক সহায়তায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৩ হাজার ৪৬৩ কোটি ৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বাজেট ঘোষণা করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানম।

বাজেট অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১০২ কোটি ৩৫ লাখ ৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ৪৮০ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রারম্ভিক স্থিতি ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। রাজস্ব বা সাধারণ তহবিল থেকে আয় ধরা হয়েছে ৪৪৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পানি সরবরাহ তহবিল থেকে আয় হবে ৭০ কোটি ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সরকারি উন্নয়ন খাত থেকে পাওয়া যাবে ১৪০ কোটি টাকা। বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট ও উন্নয়ন প্রকল্প থেকে আয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১০ কোটি ৯১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ব্যয়ের মধ্যে রাজস্ব বা সাধারণ তহবিলে রাখা হয়েছে ৪১৭ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পানি সরবরাহ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সরকারি অনুদানে উন্নয়ন খাতে রাখা হয়েছে ১৩৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। নিজস্ব রাজস্বভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৬০৮ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বাজেট অনুযায়ী, অর্থবছর শেষে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সমাপনী স্থিতি হবে ২ হাজার ৬২১ কোটি ৮৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।

একই অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়। সংশোধিত বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৬৩ কোটি ৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৫ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এ অর্থবছরের শেষে সমাপনী স্থিতি থাকবে ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

বাজেট উপস্থাপনায় জানানো হয়, নগর উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বৈদেশিক সহায়তায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়ছে। এত মানুষের জন্য সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হলেও সিটি করপোরেশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে ৩৭টি যানবাহন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ২০টি আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। এছাড়া ময়লা-আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

প্রশাসক জানান, চলতি অর্থবছরে কোনো কর বাড়ানো হয়নি। প্রতিটি অঞ্চলে পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে সব আইন ও বিধি অনুসরণ করে কর নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২০২৮-২৯ অর্থবছরে আবার সম্পত্তির পুনর্মূল্যায়ন শুরু হবে।

তিনি আরো জানান, নিজস্ব রাজস্ব ও সরকারি অনুদানে রাস্তা নির্মাণ, ড্রেন নির্মাণ এবং রাস্তা মেরামতের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩৭৫ কোটি টাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরবাসীর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব আমিন আল পারভেজ, প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল বারেক, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়াসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও