ফেনীর দাগনভূঞায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস স্কুলফেরত শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ওপর উঠে গেলে রাইসা আক্তার নামে সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত আরো সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ রোববার বিকালে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সিলোনিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রাইসা জায়লস্কর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের মো. শিপনের মেয়ে। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে সিলোনিয়া হাইস্কুলের ছুটি শেষে শিক্ষার্থীরা হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় সিলোনিয়া বাজারসংলগ্ন মহাসড়কে ফেনীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে বাসটি সড়ক ছেড়ে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পথচারী চাপা পড়ে আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। আহত সাতজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফেনী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
সিলোনিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। স্থানীয় লোকজনও তাদের সহযোগিতা করেন। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াতের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুল ইসলাম জানান, নিহত রাইসার মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।