বিপিএলের ভেন্যুর স্বপ্ন পূরণ হলো না বরিশালবাসীর

সম্প্রতি বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন ক্রিকেট বোর্ডের টেকনিক্যাল টিমের সদস্যরা। কিন্তু কাজের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি তারা। ফলে ভেন্যুর সম্ভাব্য তালিকা থেকেও বাদ পড়ে স্টেডিয়ামটি।

ধীরগতি ও এলোমেলো সংস্কার কাজের কারণে এবারো বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএলের কোনো ম্যাচ হচ্ছে না। বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আশ্বাসে বরিশালবাসীর মনে আশার সঞ্চার হলেও তা পুরোই ভেস্তে গেছে।

এরই মধ্যে বিপিএল ২০২৫-২৬ আসরের দিনক্ষণ, ম্যাচ সিডিউল ও ভেন্যু নির্ধারণ হয়ে গেছে। সেখানে নেই বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম। আসন্ন বিপিএল আসর প্রধানত অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে।

প্রাথমিকভাবে এই ভেন্যু ঘোষণার পর রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনায় ভেন্যু হওয়ার জোর গুঞ্জন উঠেছে বিপিএলের চেয়ারম্যান মাহাবুব আনাম পরে অন্তত একটি ভেন্যু বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন। তার ঘোষণার পর সম্প্রতি বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ পরিদর্শন করেন ক্রিকেট বোর্ডের টেকনিক্যাল টিমের সদস্যরা। কিন্তু কাজের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি তারা। ফলে ভেন্যুর সম্ভাব্য তালিকা থেকেও বাদ পড়ে স্টেডিয়ামটি।

বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আশা, বরিশালে একটি আন্তর্জাতিক মানের খেলার আসর জমবে। তবে এবারও তা না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ আর হতাশা দেখা দিয়েছে।

বরিশালের ক্রিকেটপ্রেমীদের মতে, বরিশালে এতো ভালো মানের একটি স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র অব্যবস্থাপনার কারণে তা মূল্যহীন হয়ে আছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে সংস্কার কাজ করেও সন্তোষজনক জায়গায় নেয়া যায়নি স্টেডিয়ামটিকে।

সরেজমিনে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেখা গেছে, সংস্কার কাজের ভীষণ এলামেলো অবস্থা। প্রত্যেক কাজ শুরু করলেও তা অসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। মাঠ প্রস্তুতে গুরুত্ব না দিয়ে তৈরি করে রাখা হয়েছে গ্যালারির চেয়ার।

প্যাভেলিয়ন ভবন ও মিডিয়া ব্লকের ৫০ শতাংশ কাজ শেষের দাবি করা হলেও এখনও তা সময়সাপেক্ষ। ফ্লাড লাইট অনেক আগে লাগানো হলেও দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় তা অকেজো হয়ে গেছে। সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার, ইলেকট্রিক ওয়্যার বসানোসহ বিভিন্ন কাজের মধ্যে কিছু কাজ শেষ হয়েছে।

তবে মাঠের সংস্কার কাজের অগ্রগতি সবচেয়ে শোচনীয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেটের মতো এখানকার মাঠেও উন্নতমানের ঘাস লাগানো ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরির কথা থাকলেও তা কবে হবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সংশ্লিষ্ট কাউকেই সংস্কার কাজের আশে পাশে পাওয়া যায়নি। তবে স্টেডিয়ামে অনুশীলনে আসা খেলোয়াররা জানিয়েছেন, কাজের যে অবস্থা, তাতে এক বছরেও এই কাজ শেষ হবেনা। ফলে এই সময়ের মধ্যে স্থানীয় কোো খেলাও এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা মনে করছেন না।

বরিশাল বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান খসরু বলেন, বিপিএলের আসর না বসা বা বরিশালে আন্তর্জাতিক মানের একটি খেলার আসরের আয়োজন হওয়ার স্বপ্ন ভাঙ্গার পেছনের প্রধান কারণ অনির্বাচিত ও অভিভাবকহীন জেলা ক্রীড়া সংস্থা। সংস্থাটির একটি নির্বাচিত কমিটি থাকলে কখনই এমন পরিস্থিতি হতো না।

আরও