গৃহায়ন মন্ত্রণালয় ও রাজউক

গভীর নলকূপে পানি সরবরাহ দেখতে আট কর্মকর্তার চীন ভ্রমণ

গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দেখতে চীন ভ্রমণ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আট কর্মকর্তা। তাদের ব্যয় বহন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ডেলকো ওয়াটার লিমিটেড।

গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দেখতে চীন ভ্রমণ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আট কর্মকর্তা। তাদের ব্যয় বহন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ডেলকো ওয়াটার লিমিটেড। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থে এ ভ্রমণকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

চীন সফরে যাওয়া আট কর্মকর্তার মধ্যে দুজন গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের। তারা হলেন অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুজ্জামান মিয়া ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব বশির আহমেদ। রাজউকের ছয় কর্মকর্তা হলেন সদস্য (এস্টেট অ্যান্ড ল্যান্ড) শেখ মতিয়ার রহমান, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) মো. বশিরুল হক ভূইয়া, প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম, পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট) মো. আবু কায়সার মল্লিক, পূর্বাচল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্টের পরিচালক মো. বদিউল আলম ও প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. সাদ্দাম হোসেন।

জানা গেছে, পূর্বাচল প্রকল্পের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তারা স্কুয়েইন ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম দেখতে গত ২৫ নভেম্বর চীনে যান। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী গতকাল রাতে তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ ভ্রমণটি ঠিকাদারের অর্থায়নে নয়। বরং প্রকল্পের মধ্যেই এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ভ্রমণ না করা হলেও প্রকল্পের অর্থ বাঁচানোর সুযোগ ছিল না। কর্মকর্তারা আগামীকাল (মঙ্গলবার) বা পরশু (বুধবার) দেশে আসবেন। তখন বিস্তারিত জানা যাবে।’

রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৬ হাজার ১৫০ একর জমি নিয়ে গড়ে উঠছে পূর্বাচল নতুন শহর। এতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্লট রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। সেখানে বসবাসকারীদের পানি সরবরাহের জন্য প্রথমে ওয়াসার সঙ্গে কথা বলে রাজউক। ওয়াসা রাজি না হওয়ায় চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ডেলকোর সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের চারটি সেক্টরে পানির সংযোগ দেয়া হবে। প্রথম ধাপে সংযোগ দেয়া হবে ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর সেক্টরের আবাসিক, বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও অন্য প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তদের।

রাজউকের একটি সূত্র জানিয়েছে, কাজটি এমন কঠিন কিছু নয়। গ্রামের চাষীরা যে পদ্ধতিতে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তোলেন এবং বাংলাদেশের সর্বত্রই যেভাবে ভূগর্ভস্থ পানি সরবরাহ হয়, সে কাজই করবে বেসরকারি কোম্পানি। এটা এমন কোনো জটিল বা নতুন প্রযুক্তি নয় যে দেখার জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আট কর্মকর্তাকে পাঁচদিন বিদেশ ভ্রমণ করাতে হবে। এছাড়া ভ্রমণকারীদের মধ্যে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কেবল দুজন। চীন ভ্রমণে যাওয়া রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যাচ্ছেন। এর তিন মাস আগে তার এ বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণে না যাওয়ার বিষয়ে গত মাসে পরিপত্র জারি করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। গভীর নলকূপের পানি সরবরাহ দেখতে যাওয়া কর্মকর্তারা এ নির্দেশও লঙ্ঘন করেছেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বারবার নির্দেশনা দিয়েও এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিদেশী সফর রুখতে পারছে না, এটা সত্যিই দুঃখজনক। তাছাড়া ঠিকাদারের অর্থায়নে বিদেশ সফরের ফল সবসময় নেতিবাচকই দেখেছি আমরা। যে প্রতিষ্ঠান পূর্বাচলে পানি সরবরাহ করতে চাচ্ছে, তার ত্রুটি থাকলে সাধারণত সফরকারীরা সেগুলো এড়িয়ে যাবেন। আবার দেখা যায়, তাদের সফর ব্যয় যদিও বলা হয় প্রকল্পের অর্থায়নে, কিন্তু সেটা তো রাষ্ট্রের টাকা। অর্থাৎ এটা এক ধরনের কৈয়ের তেলে কৈ ভাজার মতো। রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই এ প্র্যাকটিসে আছে। আমরা আশা করেছিলাম এ ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসবে রাষ্ট্র। কিন্তু সে প্রত্যাশা অধরাই রয়ে গেল।’

আরও