পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘হর্ন বন্ধ করা আমার দায়িত্ব না। আমার দায়িত্ব হচ্ছে আইনটাকে প্রয়োগ করা।’
তিনি বলেন, ‘সবাই আমাকে দেখে বলে আপা হর্ন তো বন্ধ হলো না। আপনি ৫৩ বছর ধরে হর্ন বাজিয়ে যাচ্ছেন, আপনার ড্রাইভার হর্ন বাজায় যাবে; আর আমাকে দেখলেই বলবেন হর্ন বন্ধ হইল না।’
গতকাল রাজধানীর সামরিক জাদুঘরে অনুষ্ঠিত সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াড ২০২৫-এর চূড়ান্ত পর্ব উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি) এবং উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর যৌথ আয়োজনে এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতায় ১৫০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪ হাজার ৯০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়ংকর পৃথিবী রেখে যাওয়া হচ্ছে; যেখানে নজিরবিহীন বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের পৌনঃপুনিকতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে।’ তার মতে, যারা জীবাশ্ম জ্বালানিকে সমর্থন করে, তারা পরিবেশগত সংকট কমাতে নয়, বরং তা টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী।
তরুণদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সম্পৃক্ততা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে, তাদের অধিকাংশই প্রশাসনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের ধারায় পরিচালিত হন। তারা সরাসরি সুশীল সমাজ বা তারুণ্যের প্রতিনিধি নন। অথচ একটি টেকসই ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের যুক্তি, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সুশীল সমাজের দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি সত্যিই দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে চাই, তবে তরুণ সমাজ ও নাগরিক সমাজ—দুই শক্তির নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘এ সরকারই তরুণদের। তার মানে এই নয় আমি নিজেকে তরুণ দাবি করছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম তিনজন তরুণ উপদেষ্টা পরিষদে সদস্য হয়েছিলেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং করছেন।’
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘মাত্র সাত মাসে বিদ্যুৎ খাতে বৈদেশিক ঋণ ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসা একটি স্পষ্ট বার্তা যে পরিবর্তন সম্ভব, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে।’
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নুর আহমেদ ও ‘ক্লিন’-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।