বিজিএমইএর সেবা না নিলে ভোটাধিকার থাকবে না

ইজিএমে গঠনতন্ত্রে নতুন ধারা অনুমোদন

ইজিএমের আগে ৫ সেপ্টেম্বর জারি করা নোটিসে ভোটাধিকার পাওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে চারটি শর্ত প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে বাস্তবে বিদ্যমান ও চালু কারখানা থাকা এবং পোশাক উৎপাদন ও সরাসরি রফতানিতে সক্রিয় থাকা।

কারখানা চালু রয়েছে ও রফতানি কার্যক্রমও পরিচালনা করছে, কিন্তু বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) কোনো সেবা নেয় না, এমন সদস্যদের ভোটাধিকার থাকছে না। সংগঠনটির ভোটার হওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে গঠনতন্ত্রে নতুন ধারা সংযোজনের বিশেষ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন সদস্যরা।

গতকাল রাজধানীর উত্তরায় নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিজিএমইএর বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) গঠনতন্ত্রে ৫(সি) ধারা সংযোজনের বিশেষ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর ফলে নিষ্ক্রিয়, কারখানাবিহীন এবং সংগঠনের সেবা না নেয়া সদস্যদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কারখানা চলমান আছে, রফতানি করে কিন্তু আমাদের কোনো সেবা নেয় না, তাদের ভোটাধিকার থাকবে না।’

ইজিএমের আগে ৫ সেপ্টেম্বর জারি করা নোটিসে ভোটাধিকার পাওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে চারটি শর্ত প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে বাস্তবে বিদ্যমান ও চালু কারখানা থাকা এবং পোশাক উৎপাদন ও সরাসরি রফতানিতে সক্রিয় থাকা। রফতানিমুখী পোশাক খাতের জন্য সাবকন্ট্রাক্টিংয়ের মাধ্যমে পরোক্ষ রফতানিতে যুক্ত বাস্তবে বিদ্যমান উৎপাদন স্থাপনার সদস্যরাও ভোটাধিকার পাওয়ার যোগ্য হবেন।

এছাড়া কারখানা বর্তমানে চালু না থাকলেও সেখানে কারখানা ও উৎপাদন যন্ত্রপাতি স্থাপিত থাকলে সদস্য ভোটাধিকার পাওয়ার যোগ্য হবেন। একই সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইউডি বা ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনসহ বিজিএমইএর প্রয়োজনীয় সব সেবা নিয়মিত গ্রহণ করলেও ভোটার তালিকায় থাকার যোগ্যতা থাকবে।

অন্যদিকে কোনো সদস্যের বাস্তবে বিদ্যমান কারখানা বা উৎপাদন স্থাপনা না থাকলে তাকে ভোটার তালিকায় রাখা হবে না। স্থাপিত যন্ত্রপাতি না থাকা এবং পোশাক উৎপাদন, সরাসরি রফতানি, সাবকন্ট্রাক্ট উৎপাদন বা প্রকৃত রফতানি কার্যক্রমে যুক্ত না থাকলেও ভোটাধিকার থাকবে না। উৎপাদন বা রফতানি কার্যক্রম থাকলেও বিজিএমইএর প্রয়োজনীয় সেবা নিয়মিত গ্রহণ না করলে, ইউডি সেবাসহ, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা হারাবেন সংশ্লিষ্ট সদস্য।

জানা গেছে, তৈরি পোশাক খাতের কিছু প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) দুই সংগঠনেরই সদস্য। এ ধরনের কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের যাবতীয় সেবা বিকেএমইএ থেকে নেয়। তবে বিজিএমইএর সদস্যপদ ধরে রাখতে বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ করে। এ ধরনের দ্বৈত সদস্যপদের কারণে ভোটের দিন জটিলতা তৈরি হয়।

ইজিএমে অনুমোদিত সংশোধনীর মাধ্যমে বিজিএমইএর ভোটার তালিকা থেকে নিষ্ক্রিয় ও প্রকৃত কার্যক্রমবিহীন সদস্যদের বাদ দেয়ার পাশাপাশি সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত সদস্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বিজিএমইএর সদস্যদের একটি অংশ এর আগে সংগঠনটির ভোটার তালিকা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। নতুন ধারা অনুমোদনের ফলে ভোটাধিকার নির্ধারণে কারখানার অস্তিত্ব, উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম এবং বিজিএমইএর সেবা গ্রহণের বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনায় আসবে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্য কারখানার সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৫০০। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ নিটওয়্যার ও সোয়েটার এবং বাকি ৬০ শতাংশ ওভেন পোশাক প্রস্তুতকারক। সংগঠনটির নেতারা বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন, প্রায় ১ হাজার ৮০০ কারখানা নিয়মিত বিজিএমইএর কাছ থেকে ইউডি সেবা নেয়।

আরও