শিবচরে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে বাড়ছে আক্রান্ত

এক মাসে চিকিৎসা নিয়েছে ১,১৮০ রোগী

পোষা প্রাণী হিসেবে বিভিন্ন জাতের বিড়াল পালনের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদারীপুরের শিবচরে কুকুর ও বিড়ালের কামড়-আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। পোষা প্রাণী হিসেবে বিভিন্ন জাতের বিড়াল পালনের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ঘরে বিভিন্ন জাতের বিড়াল পোষার প্রবণতা বৃদ্ধিকে দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিভিন্ন জাতের বিড়াল পালনের আগ্রহ বেড়েছে। পোষা বিড়ালের সঙ্গে খেলাধুলা কিংবা অসাবধানতাবশত গায়ে হাত-পা লাগার কারণে অনেকে কামড় বা আঁচড়ের শিকার হচ্ছেন।’

তিনি জানান, শুধু আগস্টে কুকুর ও বিড়ালের কামড়-আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিয়েছে ১ হাজার ১৮০ জন। অর্থাৎ ওই মাসে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩৮ জন কুকুর-বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ের ঘটনায় চিকিৎসা নিয়েছে।

পোষা বিড়ালের আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে আসেন মেহের আফরোজ। তিনি জানান, তিনি বাসায় একটি পার্সিয়ান বিড়াল লালন-পালন করেন। ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ভুলবশত বিড়ালটির গায়ে তার পা লেগে যায়। এতে বিড়ালটি তাকে আঁচড় দেয়। পরে সতর্কতা হিসেবে তিনি হাসপাতালে এসে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নেন।

একইভাবে বিড়ালের কামড়ের শিকার হয়েছে ১০ বছরের এক শিশু। শিশুটির বাবা শিবচর শহরের বাসিন্দা রফিক বেপারী জানান, গত মাসে তার মেয়ে কোথা থেকে একটি বিড়ালের বাচ্চা নিয়ে আসে। মেয়ের আবদারে বিড়ালটি বাড়িতে রেখেই লালন-পালন করছিলেন তারা। বিড়ালের সঙ্গে খেলার সময় বাচ্চাটি তার মেয়ের হাতে কামড় দেয়। এরপর দেরি না করে মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তরিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘কুকুর বা বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচড়কে অবহেলা করা উচিত নয়। আক্রান্ত স্থানে দ্রুত সাবান ও প্রবহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ক্ষতস্থানে মরিচ, চুন, মাটি, তেল বা অন্য কোনো পদার্থ লাগানো উচিত নয়। এরপর যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী র‌্যাবিস ভ্যাকসিনসহ অন্যান্য চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পোষা বিড়াল বা কুকুর থাকলে প্রাণীটির স্বাস্থ্য ও টিকাদানের বিষয়েও মালিকদের সচেতন থাকতে হবে। শিশুদের পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলাধুলার সময় অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’

মাদারীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আছির উদ্দিন জানান, পোষা প্রাণী মানুষের সঙ্গী হলেও তাদের আচরণ সব সময় অনুমান করা যায় না। তাই বিড়াল বা কুকুর পালনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কামড় বা আঁচড়ের ঘটনা ঘটলে ক্ষতস্থানে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও র‌্যাবিস প্রতিরোধী ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

আরও