ঢাকার সাভারে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও ১১টি তাজা পাইপ বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ছয় সদস্যের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ। আজ সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল রাতে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে সাভার মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রথম মামলাটি করেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে এবং মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান নামের এক যুবককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানার ফেকামারা এলাকার মো. হানিফের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান, সাভারের শ্যামপুরের মৃত ইসমাইলের ছেলে মো. নাজমুল হাসান মামুন, পাবনার সুজানগর থানার দুর্গাপুর এলাকার মো. আমিন উদ্দিন খানের ছেলে মো. আক্কাস আলী, আশুলিয়ার দিয়াখালী এলাকার কামাল হোসেন, রাখী ও রাকিব।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ আগস্ট রাতে সাভারের ট্যানারি এস্টেটের পশ্চিম দেয়ালসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় নব্য জেএমবির সদস্যরা নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে বসেন। খবর পেয়ে সিটিটিসির একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে আরিফকে গ্রেফতার করে। তবে অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যান।
পরে গ্রেফতার হওয়া আরিফের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় সিটিটিসি। সেখান থেকে ৯৮ শতাংশ ঘনমাত্রার সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম নাইট্রেট পাউডার, ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি তৈরির ডেটোনেটর, রিমোট কন্ট্রোলার, ভোল্টমিটার ও জিপার ভর্তি বিয়ারিং বলসহ প্রায় আড়াই ডজন আলামত জব্দ করা হয়।
এছাড়া ওই বাসা থেকে ১১টি তৈরি তাজা পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়। জননিরাপত্তার স্বার্থে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলেই সেগুলো নিরাপদে ধ্বংস করে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, শ্যামপুরের ঘটনায় এজাহারভুক্ত ছয়জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ছয় থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় গ্রেফতার আরিফকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে সাভার মডেল থানা পুলিশের পাশাপাশি সিটিটিসির একাধিক দল, র্যাব ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট যৌথভাবে কাজ করছে।
এদিকে সাভারের সাধাপুর এলাকায় প্রেসার কুকারসদৃশ বোমা উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক ইমরান হোসাইন বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন।
এদিকে ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। সাধাপুর এলাকায় উদ্ধার হওয়া বস্তুটির রহস্য উদঘাটনে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।