‘ঐক্য-সমৃদ্ধির’ ৩১ বছর স্লোগানে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ চত্বরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংগঠনটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
ডিআরইউর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। এরপর ডিআরইউ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপকমিটির আহ্বায়ক এম এম জসিম এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপকমিটির সদস্যসচিব মাহফুজ সাদি।
র্যালি শেষে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “যারা সরকারে আছেন, সরকারের বাইরে যারা আছেন এবং বিরোধী দলে যারা আছেন—তারা মুক্ত কণ্ঠে সমালোচনা করবেন। সরকারের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। এভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।” তিনি আরো বলেন, “সেই প্রত্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হচ্ছে গণমাধ্যম।”
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, সাংবাদিকদের কাজ রাজনীতিকদের চেয়েও কঠিন। নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশন করা রাষ্ট্র পরিচালনার চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ জানান, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করার ইচ্ছা সরকারের নেই। আজ দেশ যেখানে পৌঁছাতে পেরেছে, তার পেছনে সংবাদমাধ্যমের অনেক বড় অবদান রয়েছে। মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী জানান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ডিআরইউর ক্রীড়া কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সিড মানি দেয়ার আশ্বাস দেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এ আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের সুবিধা বৃদ্ধির কথা জানান ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জুলাই আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা স্মরণ করেন। তিনি জানান, আন্দোলনে শহীদ ছয় সাংবাদিকের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী), ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি শফিক রেহমান, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ ও ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।