মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা শ্রমিকদের সুরক্ষায় পাঁচ গুণ ক্ষতিপূরণ দাবি

সভায় আলোচকরা শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব, ক্ষতির পরিমাণ এবং জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পাঁচ গুণ ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ সি আর আবরার। মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা হাজারো শ্রমিকের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সি আর আবরার বলেন, মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ শ্রমবাজারে গত দশক ধরে সিন্ডিকেটের প্রভাব বিরাজমান। এতে বিভিন্ন ব্যক্তি পরিবর্তিত হলেও মূল হোতারা একই রয়ে গেছে। এই সিন্ডিকেটের কারণে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের সম্মিলিত পদক্ষেপের দাবি জানান।

সভায় আলোচকরা শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব, ক্ষতির পরিমাণ এবং জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। সি আর আবরার বলেন, শ্রমিকদের সুরক্ষায় ক্ষতিপূরণ পাঁচ গুণ করা এবং শ্রমবাজার বিষয়ক চুক্তিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি ভবিষ্যৎ নেতাদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেন কেউ এই সিন্ডিকেট আবার নতুন করে চালু করতে না পারে এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।

বায়রার যুগ্ম সম্পাদক ফখরুল ইসলাম জানান, মালয়েশিয়ায় ১৫টি দেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করা হলেও বাংলাদেশে এমন সিন্ডিকেটের নজির নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে শ্রমিকদের খরচ বাড়াচ্ছে। এতে করে প্রতিটি শ্রমিকের খরচ ১ লাখ ৫২ হাজার টাকারও বেশি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকার মনিটরিং করলে সরকারি তালিকা অনুযায়ী দেড় লাখ টাকার মধ্যেই শ্রমিক পাঠানো সম্ভব।

বায়রার সদস্য মোস্তফা মাহমুদ বলেন, ২০২১ সালে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ায় প্রায় ১০০টি সিন্ডিকেট সরকারের সহযোগিতায় কাজ করছে। কিন্তু আন্দোলনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়া সত্ত্বেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থে লাউঞ্জের উদ্বোধনের পরিবর্তে বিনা খরচে ভিসা ও যাতায়াত খরচ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পর মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে একটি কমিশন গঠন করা উচিত ছিল। ভারত ও নেপালের মতো দেশ থেকে কম খরচে শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হলেও বাংলাদেশে প্রতারণার শিকার হয়ে শ্রমিকদের পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

হেল্ভেটাস বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক আবুল বাসার বলেন, সিন্ডিকেটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা ক্ষতির শিকার হচ্ছে। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

সি আর আবরার আরো বলেন, এই সিন্ডিকেটের কারণে বহু পরিবার আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এ শ্রমিকদের আর্থিক দুরবস্থা সামলাতে সরকারকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

আলোচনা সভায় নাগরিক সমাজ, অধিকারকর্মী, বেসরকারি সংস্থা, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও