ভোটাররা প্রতিবাদী হলে ভোটাধিকার প্রয়োগ অনেকটাই সহজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আওয়াল। তিনি বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় ভোটাররা সচেতন ও প্রতিবাদী হয়ে উঠলে ভোটাধিকার প্রয়োগ অনেকটাই সহজ হবে। এ জন্য ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক শক্তি অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ শুক্রবার সকালে সাভারে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, আমি মনে করি আজকে যারা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী রয়েছেন, যারা ইয়ং তারা কিন্তু আমাদের চেয়ে অনেক বেশি সৎ এবং অনেক বেশি সাহসী। ভোটাধিকার প্রয়োগে এমন ভোটারদের আরও দায়িত্ববান হতে হবে।
তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই নির্বাচন/ভোটাধিকার প্রয়োগ হয়। সেখানে কিন্তু কোনও সহিংসতা হয় না। সেখানে সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সবাই গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়, ভোটাধিকার প্রয়োগটাই। এখানে কিন্তু আমাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন লাগবে। আমরা চাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। অনেক সময় ভোটে অনেক বড় ধরনের সহিংসতা হয়ে থাকে। মারামারি হয়ে থাকে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের সংস্কৃতিতে কীভাবে যেন গড়ে উঠেছে- নির্বাচনের সময় সহিংসতা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই বিষয়টা বেদনাহত, মর্মাহত করে তোলে। এই চর্চা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। হয়তো একটু সময় লাগবে। ভোটাধিকার প্রয়োগ কিন্তু এখনও নাগরিক দায়িত্ব। দায়িত্ব জিনিসটা একটা মনস্তাত্ত্বিক।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা চেষ্টা করছি বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দিতে। আমরা শিগগরই বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাবো আলোচনার জন্য।
ইভিএমের সক্ষমতা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আরও কী পরিমাণ সক্ষমতা দরকার এ নিয়ে আমরা সভা করবো। তারপর ইভিএম বাড়ানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই মুহূর্তে একাই কিছু বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমরা নতুন একটি কমিশন। আমাদের কিন্তু আন্তরিক প্রত্যাশা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। আমরা অন্তরের অন্তস্থল থেকে বিশ্বাস করি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, গণতন্ত্র বিকশিত হোক। একই সঙ্গে ভোটের মাধ্যমে একটা দায়িত্বশীল পার্লামেন্ট গঠিত হোক। পার্লামেন্টে তর্কবিতর্কের মাধ্যমে জনগণের অধিকারও সংরক্ষিত হোক। ধীরে ধীরে আমরা একটি উন্নত রাষ্ট্র ও উন্নত গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হই- এটাই প্রত্যাশা করি।
নির্বাচন কমিশনের সচিব হুমায়ুন কবীর খন্দকার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন, সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব, সাভার পৌরমেয়র আব্দুল গণি, সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।