অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন

এসএসসিতে অকৃতকার্যদের তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার উদ্যোগ বিবেচনা করছে সরকার

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকা সবচেয়ে বড়। শিক্ষার্থী শেখার দিক থেকে পিছিয়ে পড়লে তার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। এক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের দায়িত্ব যেমন আছে, তেমনি পরিবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাদানের গুণগত মান ও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে সরকার। পাশাপাশি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পদ্ধতি পরিবর্তন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিসহ অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘চ্যালেঞ্জড্ শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। এতে দেশের আট বিভাগের দুই শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকের ভূমিকা সবচেয়ে বড়। শিক্ষার্থী শেখার দিক থেকে পিছিয়ে পড়লে তার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। এক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের দায়িত্ব যেমন আছে, তেমনি পরিবারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাদানের গুণগত মান ও শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

ডিজিটাল মাধ্যমের আসক্তি বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্মার্টফোন ও ডিভাইসের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তি যেন তরুণদের বিকাশ ও মনোযোগ নষ্ট না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া হুট করে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন না করে গবেষণা, উপযুক্ত সময় ও প্রস্তুতির মাধ্যমে এটি করা উচিত। কঠোর পরিশ্রম ও শিক্ষকদের সঠিক মূল্যায়নের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর বসিয়ে না রেখে তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। এ ছাড়া উত্তরপত্রের শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগ না করে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের মাধ্যমে খাতা দেখার ব্যবস্থা করা হবে। দুর্বল অবকাঠামো, ভালো শিক্ষকের অভাব, আর্থিক সংকট বা পারিবারিক সমস্যার কারণে ছয় লাখের বেশি শিক্ষার্থী খারাপ ফল করেছে। তাই সরকার সব শিক্ষার্থীর দায়িত্ব সমানভাবে পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, অকৃতকার্যদের ইচ্ছা অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ব্যবসায় আগ্রহী হলে প্রাথমিক অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে। জাপানি, কোরীয়, চীনা বা পূর্ব ইউরোপীয় ভাষা শিখিয়ে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে দেশে ও বিদেশে সরাসরি কাজের ব্যবস্থা করবে সরকার। অবকাঠামোগত ও শিক্ষকসংকট কাটাতে বিশেষজ্ঞ, অভিভাবক ও শিক্ষকদের পরামর্শ নেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরী সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন ড. ইরাম মরিয়ম, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আরিফুর রহমান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস, অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তা সাদাত হোসাইন এবং নিউজিল্যান্ড ডেইরির বিপণন প্রধান আসিফ রউফ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নিশাত সুলতানা এবং অনুষ্ঠানের সূচনা করেন তপন কুমার দাশ।

সম্মেলনের উন্মুক্ত আলোচনায় চা বাগান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও গৃহকর্মীর সন্তান সহ নানা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে ছিল তিন মাসের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষা নেয়া, অন্তত দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের কলেজে ভর্তির সুযোগ দেয়া এবং সরকারি দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রামে অকৃতকার্যদের অগ্রাধিকার দেয়া।

উপস্থিত প্রতিনিধিরা দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, কারিগরি খাত জোরদার, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুদের ১০টির মধ্যে একটি বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা এবং স্কুল শেষের বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি স্বচ্ছ করা, নিয়মিত তদারকি বাড়ানো, স্মার্টফোনের আসক্তি কমানো এবং স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়া হয়।

আরও