প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে দেশের মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লালকার্ড দেখাবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার খরমপুর এলাকায় হযরত শাহপীর কেল্লা শহীদ (রহ.) মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
গণভোট নিয়ে সরকারের প্রচারণা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, যারা ‘হ্যাঁ’ ভোট নিয়ে সমালোচনা করছেন, তাদের জানার পরিধি সীমিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণভোটে সরকার হয় ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ এর যেকোনো একটির পক্ষে অবস্থান নেয়। এ গণভোট হচ্ছে, সংস্কারের পক্ষে ভোট। এ সংস্কারের মাধ্যমে দেশের অপশাসন দূর করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে স্বৈরাচার ফিরে আসতে না পারে।
তিনি আরো বলেন, সংস্কারের একটি সমষ্টিগত প্যাকেজ নিয়েই এ গণভোট। সরকার সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। যাতে দেশে আবার স্বৈরাচার, মানুষের অধিকার হরণ, ব্যাংক লুটপাট ও হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের মতো ঘটনা না ঘটে। ব্যাংক থেকে চুরি-চামারি করে ফেলে রেখে গেছে। এখন সেগুলো বাঁচানোর দায়িত্ব সরকারের ওপর পড়েছে। এ কারণেই পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক একত্র করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক করা হয়েছে। এ ধরনের লুটপাট বন্ধ করতে চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
তিনি জানান, নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসব মুখরভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং ও পোলিং অফিসারদের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
ভোট কারচুপির আশঙ্কা নিয়ে তিনি বলেন, এর জবাব মানুষই দেবে, সরকারকে দিতে হবে না। মানুষ এবার প্রথমবারের মতো প্রকৃতভাবে ভোট দিতে পারবে। আগের নির্বাচনে রাতে ভোট হয়ে গেছে এমন নজির ছিল। তিনটি নির্বাচন নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে কী ভয়াবহভাবে নির্বাচন হয়েছে, তা ওঠে এসেছে। এসব রিপোর্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। আপনারা পড়বেন।
এ সময় আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন মাহমুদ, কসবা সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুস সাকিব, আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম, খরমপুর মাজার শরীফ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খাদেম মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।