একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে ১৮ প্রকল্প

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, একনেকের আলোচ্যসূচিতে ১৬টি প্রকল্প থাকলেও সঙ্গে টেবিলে উঠতে যাচ্ছে আলোচিত দুই মেট্রোরেল প্রকল্প। সেগুলা হচ্ছে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্প। এ দুই প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে গতকাল শেষ সময়ে প্রকল্প দুটি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ঢাকা তিন মেট্রো, বৈদ্যুতিক রেললাইনসহ ১৮টি প্রকল্প উত্থাপন করা হয়েছে। দুই মেট্রোরেল প্রকল্প বাদে এসব প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৬০ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে আজ সকাল ১০টায় একনেক সভা শুরু হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

একনেক বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, একনেকের আলোচ্যসূচিতে ১৬টি প্রকল্প থাকলেও সঙ্গে টেবিলে উঠতে যাচ্ছে আলোচিত দুই মেট্রোরেল প্রকল্প। সেগুলা হচ্ছে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্প। এ দুই প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে গতকাল শেষ সময়ে প্রকল্প দুটি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

একনেকে উঠতে যাওয়া ‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫) সাউদার্ন রুট’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। মেয়াদ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত।

রেল খাতের দুটি প্রকল্পের মধ্যে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণের প্রথম সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮২২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

স্বাস্থ্য খাতের ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৩৯ কোটি ৬ লাখ টাকা। আর স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

সড়কের দুই প্রকল্পে ব্যয় হবে যথাক্রমে ৯৪৩ কোটি ৮৭ লাখ ও ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরিশাল সেনানিবাস স্থাপনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজে ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণে ৩৭৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

এছাড়া ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২-এ ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ ও ৬০৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। খুলনা পয়ঃনিষ্কাশন, মনপুরার বিদ্যুৎ বিতরণ ও ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার তিনটি সংশোধিত প্রকল্পও রয়েছে তালিকায়। তৈরি পোশাক ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা উন্নয়নে নেওয়া নতুন প্রকল্পে ব্যয় হবে ৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

এদিকে ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও ১৫টি প্রকল্পের বিষয়ে সভায় অবহিত করা হবে।

একনেক সভায় অংশ নিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী হলেন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বাণিজ্যমন্ত্রী হলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও ঊধ্বর্তন কর্মকর্তরা।

আরও