ঝিনাইদহের চার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

নেই চিকিৎসক, গর্ভবতী নারীদের ছুটতে হয় দূরের হাসপাতালে

অভিযোগ রয়েছে, উদ্বোধনের আট বছর পরও এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক সংকটে চালু করা যায়নি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা।

দাঁড়িয়ে আছে তিনতলা ভবন, কক্ষে কক্ষে সাজানো চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রস্তুত শয্যা, চিকিৎসক ও কর্মীদের থাকার জন্য ডরমিটরি। এমনকি বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে রয়েছে জেনারেটরও। কিন্তু নেই চিকিৎসক। এ অবস্থা ঝিনাইদহ জেলার চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেরই। অভিযোগ রয়েছে, উদ্বোধনের আট বছর পরও এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক সংকটে চালু করা যায়নি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামের গর্ভবতী নারীরা। কাছের এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা না পেয়ে তাদের ছুটতে হচ্ছে দূর-দূরান্তের বিভিন্ন হাসপাতালে। এতে জীবনের ঝুঁকি ও ভোগান্তি উভয়ই বাড়ছে। তবে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা ঝিনাইদহের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় এসব হাসপাতাল। ২০১৮ সালে উদ্বোধনের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল—গ্রামের নারীরা নিরাপদ মাতৃত্বসেবা পাবেন, জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে, মিলবে নবজাতকের সেবাও। কিন্তু আট বছরেও সে প্রত্যাশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। ভবন ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে সরকারি এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর বড় একটি অংশ। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরজমিনে দেখা যায়, জেলার শৈলকুপা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দুধসর। আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। পরিকল্পনা ছিল, এ কেন্দ্র থেকেই গর্ভবতী নারীদের প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, প্রসূতি ব্যবস্থাপনা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হবে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে এতদিনেও প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ সেবা কেন্দ্র হিসেবে কার্যকর হয়ে উঠতে পারেনি।

একই চিত্র ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা, কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকা ও শৈলকুপার কাঁচেরকোল গ্রামে নির্মিত অন্য তিনটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেও। তিনতলা ভবন, শয্যা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য অবকাঠামো থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত সক্ষমতা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালগুলো নির্মাণের সময় যে আশার কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে গিয়ে রোগীদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। বিশেষ করে প্রসববেদনা ওঠা নারী কিংবা অসুস্থ নবজাতককে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হলে পরিবারের সদস্যদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে চারটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নির্মিত এসব হাসপাতালের বাস্তবায়ন করেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিটি হাসপাতাল তিনতলা বিশিষ্ট। চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন কক্ষ।

দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এলাকার বাসিন্দা বসির আহম্মেদ বলেন, ‘হাসপাতাল আছে, ভবন আছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকলে মানুষ কীভাবে সেবা পাবে? গর্ভবতী নারী কিংবা শিশুর অসুস্থতার সময় দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি লাগে।’

ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. মোজাম্মেল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হাসপাতালগুলো চালু থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হলে সেবার পরিধি বাড়ানো

সম্ভব হবে।’

আরও