কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় সৃষ্ট চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। আজ শুক্রবার দুপুরে তিনি ফেসবুক পোস্টে এ পদক্ষেপগুলোর কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। এছাড়া, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মাঠে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০ উদ্যোগ
১. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।
২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
৩. জেনারেল রিলিফ কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গতদের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
৪. দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৫. জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
৬. স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন এবং সশরীরে দুর্গত এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
৭. প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে।
৮. ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
৯. দুর্যোগে হতাহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করছেন।
১০. চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে সেটি ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।