এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজনে সর্বস্তরের মানুষের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এবারের পূজা কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একক উৎসব নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের সামাজিক ও অসাম্প্রদায়িক অংশগ্রহণে এটি জাতীয় ঐক্যের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমি ইতিপূর্বেও বহুবার বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে অংশ নিয়েছি, তবে এবারের আয়োজনে এক অনন্য ভিন্নতা দেখতে পাচ্ছি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পূজা কমিটির এক প্রস্তুতিসভায় যখন এখানে এসেছিলাম, তখন থেকেই দেখছি উৎসবকে কেন্দ্র করে দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মী, পেশাজীবী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মিলেমিশে এ উদযাপনকে সর্বজনীন রূপ দিয়েছেন।
এ সর্বজনীন অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যের এক স্পষ্ট বার্তা বহন করে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এক নতুন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি জাতি, বর্ণ ও ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ না করে কোনো আধুনিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সব ধর্মের মানুষের একসঙ্গে উৎসবে শামিল হওয়ার এ চিত্র সমাজের ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পরিবর্তনেরই রূপ।
সরকারের সামাজিক কল্যাণমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ সুবিধার ক্ষেত্রে কোনো ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ থাকবে না। এছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিন, মন্দিরের পুরোহিতসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানকারীদের জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দের পাশাপাশি মাছ ধরা বন্ধের সময়ে জেলেদের সহায়তার আওতা বাড়ানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের এ অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি, বিএনপি নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।