মিয়ানমার থেকে ভেসে আসা বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক টেকনাফ সীমান্তজুড়ে

উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। সীমান্তে সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আবারো ভেসে আসছে বিস্ফোরণ ও ভারী গোলাগুলির শব্দ। দফায় দফায় আসা বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে টেকনাফের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোয়। নিরাপত্তা শঙ্কায় অনেক জেলে নাফ নদী থেকে ফিরে এসেছেন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সীমান্তের ওপার থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসতে শুরু করে। এতে টেকনাফের সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানায়, টেকনাফ সীমান্তের কাছেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। ভয়াবহ এ শব্দের তীব্রতায় সীমান্তবর্তী এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে বলে দাবি স্থানীয়দের। এর আগে বুধবার দিন ও রাতেও মংডু এলাকায় বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, প্রায় এক বছর আগে একই এলাকায় আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল। তখন দীর্ঘ সময় সীমান্তবাসী আতঙ্কে ছিলেন। নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনায় সেই উদ্বেগ আবারও ফিরে এসেছে।

স্থানীয় জেলে মুজিবুর রহমান বলেন, সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গেলেও সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে দুপুরের দিকে ফিরে আসেন।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। সীমান্তে সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারের ভেতরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সীমান্ত এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হলেও ভয় পাওয়ার কারণ নেই। বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সীমান্তে টহল জোরদার করেছে।

আরও