ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির অভাবে ডিজিটাল লেনদেনে আমরা পিছিয়ে আছি

খুব চমৎকার একটা বছর। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে আমরাও সে বাংলাদেশের একটা অংশ। নানা কারণে ২০২৫-এ আমাদের অর্থনীতি একটু ধীরগতির ছিল।

হাজার বছর ধরে লেনদেন মানেই ছিল হাতে হাতে টাকা। কিন্তু প্রযুক্তি, নগরায়ণ ও বৈশ্বিক সংযোগ সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে। ক্যাশের জায়গায় ঢুকে পড়ছে ডিজিটাল পেমেন্ট। বাংলাদেশও এ পরিবর্তনের বাইরে নয়। দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিকাশ, সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানে ভিসার কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ

প্রথমে জানতে চাই ২০২৫ সালটা আপনাদের কেমন ছিল?

খুব চমৎকার একটা বছর। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে আমরাও সে বাংলাদেশের একটা অংশ। নানা কারণে ২০২৫-এ আমাদের অর্থনীতি একটু ধীরগতির ছিল। কিন্তু তার পরও আমি বলব যে যেটুকু হওয়ার কথা ছিল তার চেয়ে আশানুরূপভাবে ভালো হয়েছে। আমাদের প্রধান প্রতিযোগী কিন্তু অন্য ডিজিটাল পেমেন্ট কোম্পানি না, আমাদের প্রধান প্রতিযোগী নগদ লেনদেন। দেশে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী আছে যাদের গড় বয়স ২৭ বছরের মতো। তারা ডিজিটাল পেমেন্টকে খুব দ্রুত গ্রহণ করছেন। তরুণ জনগোষ্ঠী নগদ লেনদেন থেকে ডিজিটাল পেমেন্টে আসার কারণে আমরা দেখছি, ডিজিটাল পেমেন্টের প্রবৃদ্ধি ভালো হয়েছে কিছুটা অস্থিরতার মধ্যেও। তবে ক্রস-বর্ডার ট্রাভেলে আমরা ধীরগতি দেখেছি কারণ জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বেশকিছু দেশের ভিসা বাংলাদেশীদের জন্য পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে, যেমন ভারত ও দুবাইয়ের ভিসা পাওয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ট্রাভেল প্রভাবিত হয়েছে।

বাংলাদেশের টোটাল ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আপনাদের মার্কেট শেয়ার এবং এ সিস্টেমের শুরু ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?

ডিজিটাল পেমেন্টের শুরুটা আমার যতদূর মনে পড়ে ৯০-এর দশকের মধ্যবর্তী সময়ে। গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক প্রথম ক্রেডিট কার্ড বাংলাদেশের মার্কেটে আনে ১৯৯৬-৯৭ সালে। সেখান থেকে যাত্রা শুরু হলেও ২০১৩ সাল পর্যন্ত খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছিল, কারণ ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড প্রযোজ্য ছিল শুধু উচ্চবিত্ত শ্রেণীর জন্য। কিন্তু ২০১২-১৩ সালের দিকে যখন প্রথম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) চালু হয়, তখন ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস একদম প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। গত ১০-১২ বছরে ব্যাংক এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট প্রায় ৩০ শতাংশ রেটে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনো আমাদের প্রবৃদ্ধির সুযোগ অনেক বেশি। শ্রীলংকায় ডেবিট কার্ড পেনিট্রেশন প্রায় ১০০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামে ১০৪ শতাংশ, সেখানে আমাদের দেশে ২৫-৩০ শতাংশের কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্নর প্রতিটা ব্যাংককে একটা করে স্কুল অ্যাডপ্ট করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন যেন একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই একজন শিক্ষার্থীকে অ্যাকাউন্ট খুলে কার্ড দেয়া যায়, কারণ ছোটবেলা থেকে যে অভ্যাসটা তৈরি হয় সেটাই আমরা আজীবন চালিয়ে যাই। এটা একটা ভালো প্রচেষ্টা, ঠিকমতো ব্যবহার করলে আমরাও ডিজিটাল পেমেন্টে অনেক এগিয়ে যেতে পারব।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ইকোনমিক এবং বিজনেস রিলেশনশিপ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কেমন?

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম এবং অনেক পুরনো বিনিয়োগ। এটা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস থেকে পেমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি সব ক্ষেত্রেই আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন আসার পর আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশ নিজের অনুকূলে ট্যারিফ পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সম্পর্ক খুবই ভালো জায়গায় অবস্থান করছে। জ্বালানি খাতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মার্কিন কোম্পানিগুলো বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ তাদের অভিজ্ঞতা এবং মূলধন রয়েছে। আমরা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব করেছি যেন টিকিটিং সিস্টেমটা ওপেন লুপ করা যায়, যাতে আমাদের বিদ্যমান ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়েই আপনি ভ্রমণ করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো প্রযুক্তিগতভাবে খুবই কম্পিটিটিভ এবং এ প্রযুক্তির রূপান্তর হলে বাংলাদেশেরই উপকার হবে।

ভিসা প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশে থাকলেও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় আমাদের মার্কেট পেনিট্রেশন এখনো কম কেন?

এর পেছনে প্রধান তিন-চারটা কারণ আছে। প্রথমত, আমাদের নগরায়ণ এখনো ৩০ শতাংশের কাছে, ৭০ শতাংশ জনগণ এখনো গ্রামীণ এলাকায় থাকে। যেখানে ডিজিটাল পেমেন্টের অবকাঠামো বা সুযোগ আমরা এখনো তৈরি করতে পারিনি। দ্বিতীয়ত ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির অভাব। অনেকেই স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট ইউজ করে শুধু ইউটিউব বা ফেসবুক দেখার জন্য, ডিজিটাল লেনদেন করার জন্য নয়। ডিজিটাল লেনদেনের জন্য ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি খুব প্রয়োজন। তৃতীয়ত, মানুষের মধ্যে একটা ভয় আছে যে ডিজিটাল লেনদেন কতটুকু নিরাপদ বা জালিয়াতির সম্ভাবনা আছে কিনা, তার চেয়ে তারা মনে করে টাকা বা কাগজ ছুঁতে পারা ভালো। চতুর্থত, বিশ্বাস কম। যেমন ই-কমার্সে মানুষ ক্যাশ অন ডেলিভারি পছন্দ করে, কারণ তারা আগে পণ্যটা হাতে দেখে নিশ্চিত হতে চায়। ফাইনালি, আমাদের ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স ভালো না। মানুষ মনে করে ডিজিটাল লেনদেনের ফলে তারা ট্যাক্সের আওতার মধ্যে চলে আসবে। তবে এসব এরিয়াতেই আলাদাভাবে কাজ হচ্ছে এবং আমি খুবই আশাবাদী যে এসব জায়গায় উন্নতি করতে পারলে ডিজিটাল লেনদেন অনেক বাড়বে।

দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) ব্যাপ্তি অনেক বেশি। এটা আপনাদের জন্য একটি স্ট্র্যাটেজিক চ্যালেঞ্জ নাকি ব্যর্থতার ইঙ্গিত?

না, আসলে আমি এটাকে একদমই ব্যর্থতা হিসেবে দেখি না। একেক মার্কেট একেকভাবে ডেভেলপ করে। আমাদের দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ব্যাপ্তির কারণে যেটা হয়েছে যে আমরা একদম গ্রামের পর্যায়ে এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পেরেছি অনেক কম সময়ে। যেটা হয়তোবা একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভবও হতো না। কেননা একটা ব্যাংকের যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার খরচ, টেকনোলজি খরচ, অপারেশন খরচ আছে—সে কারণে তারা কস্ট ইফেক্টিভ হতো না। আমি কার্ড পেমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি থেকে এটাকে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ না দেখে একটা কৌশলগত অংশীদারত্বের সুযোগ হিসেবে দেখি। এখানে সহাবস্থানের সুযোগ আছে। আমি আমার ব্যক্তিগত উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবেন, আমার গাড়ির চালক বেতন বিকাশের মাধ্যমে চান, কারণ ওনার টাকাটা বাড়ি পাঠাতে হয়। আমি যখন দেখলাম কার্ডে বিকাশ বা নগদ ওয়ালেটে অ্যাড করে টাকা নেয়া যায়, তখন আমিও অ্যাকাউন্ট খুলি। অর্থাৎ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ব্যাপ্তির কারণে আমাদের কার্ডেরও ব্যবহার বাড়ছে। আমরা আসলে একটা সম্পূরক শক্তি বা কমপ্লিমেন্টারি সার্ভিস প্রোভাইডর করছি।

নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গেলে ভিসা সবসময় টোকেনাইজেশন বা রিয়েল টাইম ফ্রড মনিটরিং ব্যবস্থার কথা বলে। বাংলাদেশে জালিয়াতি বা ওটিপি জালিয়াতির যে ভীতি তৈরি হচ্ছে সেটা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

এটা সত্যিকারের সমস্যা, যেটা আমাদের সমাধান করতে হবে। আমরা আমাদের নেটওয়ার্কের নিরাপত্তার পেছনে বিলিয়নস অব ডলার প্রত্যেক বছর খরচ করি। আমাদের দেশে সম্প্রতি কিছু জালিয়াতি ঘটনার রিপোর্ট পেয়েছি, যেখানে গ্রাহক একটা ফ্রডস্টার থেকে ফোন পায় এবং তাকে প্ররোচনা দেয় যেন ওটিপি নম্বরটা সে পেতে পারে। ওটিপি শেয়ার করে কাস্টমার ক্ষতির সম্মুখীন হন। এটার সমাধানের জন্য আমরা একটা নতুন সমাধানের জন্য তিনটা ব্যাংকের সঙ্গে এরই মধ্যে পাইলট প্রকল্প করছি। এ সমাধানের ক্ষেত্রে আর ওটিপি জেনারেট করে লেনদেন করার প্রয়োজন হবে না। আমরা স্মার্টফোন আনলক করার জন্য যেভাবে ফেস আইডি বা প্যাটার্ন ইউজ করি, ঠিক সেই একইভাবে লেনদেনটা অথেন্টিকেট করতে পারব। এতে ফ্রডস্টাররা ফোন করে ওটিপি জেনে ট্রানজেকশন করতে পারবে না। আমরা যদি ঠিকমতো গ্রাহকদের মধ্যে সেন্স অব সিকিউরিটি দিতে পারি, তাহলে আরো বেশি করে গ্রাহকরা ডিজিটাল লেনদেনে আকৃষ্ট হবে।

জালিয়াতির ধরন তো দিন দিন আরো জটিল হচ্ছে। আমাদের ডিজিটাল লিটারেসি বা ব্যবহারকারী সুরক্ষার জায়গায় আমরা কি তুলনামূলক পিছিয়ে?

ডিজিটাল লিটারেসি বা ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি একটা জার্নি। যখন ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নতি হতে থাকবে তখন ফ্রডস্টাররাও তাদের জালিয়াতির পদ্ধতি পরিবর্তন করতে থাকবে। তবে এ ডিজিটাল জালিয়াতি শুধু বাংলাদেশে ইউনিক না, পাশের দেশ ভারতেও ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ওপর প্রচুর জালিয়াতি হয়। জালিয়াতি শূন্যে নামিয়ে আনা লক্ষ্য হতে পারে না, এটাকে কমানো লক্ষ্য হতে পারে। কারণ এটা শূন্য করতে হলে যে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ বসাতে হবে তখন আর ডিজিটাল লেনদেনে স্বাচ্ছন্দ্য থাকবে না। একটা উপমা দিয়ে বলি, জাহাজ সবচেয়ে নিরাপদ থাকে বন্দরে। কিন্তু জাহাজ বন্দরে থাকার জন্য তৈরি হয়নি। তৈরি হয়েছে উত্তাল সমুদ্র যাত্রার জন্য। যে যাত্রায় ঝুঁকি আছে। কথা হচ্ছে মোট লেনদেনের তুলনায় পারসেন্টেজে ফ্রড কতটুকু এবং আমরা সেটা মিনিমাইজ করতে পারছি কিনা।

এসএমই এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ভিসার কার্যক্রম থাকলেও তারা এখনো ক্যাশ ব্যবহার করাকেই নিরাপদ মনে করে। এটি কি আস্থার সংকট নাকি অন্য কিছু?

এর নানাবিধ কারণ আছে। বড় কারণ হচ্ছে ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাকসেপ্ট করার খরচটা বেশি। পজ (পিওএস) মেশিনের খরচ আছে, মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট আছে এবং পেমেন্ট ইমিডিয়েটলি পাওয়া যায় না। আমরা ভিসা থেকে একটা নতুন সমাধান নিয়ে কাজ করছি, যেখানে নতুন কোনো ডিভাইস কিনতে হবে না। উদ্যোক্তার যে স্মার্টফোন আছে সেই ফোনেই উনি পেমেন্ট অ্যাকসেপ্ট করতে পারবেন, সঙ্গে সঙ্গেই টাকা পাবেন। ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাকসেপ্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে। এছাড়া আমরা এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ফাইন্যান্সিয়াল ও ডিজিটাল লিটারেসি নিয়ে আলাদা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি করছি, যেন এ ব্যাপারে তাদের জ্ঞান আরো উন্নত হয়।

ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট বা ভ্রমণ খাতে ভিসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও ফরেন এক্সচেঞ্জ কন্ট্রোল বা রেগুলেটরি লিমিটেশনের সঙ্গে কোনো কনফ্লিক্ট তৈরি হয় কিনা?

কনফ্লিক্ট সম্ভবত সঠিক টার্ম না, আমি বলব এখানে প্রচুর সুযোগ আছে। যেমন আগে একজন এসএমই উদ্যোক্তাকে তার ব্যবসার বিজ্ঞাপনের জন্য বা গুগল-ফেসবুকে টাকা দেয়ার জন্য ব্যক্তিগত ট্রাভেল কোটা ব্যবহার করতে হতো। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে রিকমেন্ডেশন দিয়েছিলাম এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে যেখানে এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বছরে ৩ হাজার ডলারের ফরেন কারেন্সি কোটা দেয়া হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল পারপাসে ১৫ হাজার ডলারের একটা আলাদা কোটা আছে। অনেক ব্যাংক তাদের অন সিস্টেম রেডিনেসের কারণে এ কোটা গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে পারছে না, আমরা ওই ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কাজ করছি। যখন রিজার্ভ একটা সুবিধাজনক অবস্থানে যাবে, আমি আশা করব এ পলিসিগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখার সুযোগ আছে।

বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোনটি?

আমি সবচেয়ে বড় ঝুঁকি না বলে সবচেয়ে বড় সুযোগ বলব। ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসিই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা যত বেশি মানুষের কাছে এ ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি তৈরি করতে পারব এবং আমাদের এ বিশালসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী যারা একসময় কর্মক্ষেত্রে আসবে, তারা তত বেশি অবদান রাখতে পারবে। শুধু ফাইন্যান্সিয়াল পেমেন্টের ক্ষেত্রে না, শুধু আর্থিক শিক্ষা না, আসল লিটারেসির ওই জায়গায় যদি আমরা ঠিকমতো ফোকাস করতে পারি তাহলে আমাদের সমাজের সব ক্ষেত্রে আমরা উপকৃত হব।

আরও