ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ ও কার্যকর যুদ্ধবিরতির আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবারো স্পষ্ট করা হয় যে, দেশটি ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানা ও পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে। এই সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গাজায় চলমান হামলাকে সময়ের অন্যতম ভয়াবহ গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ফিলিস্তিন প্রশ্নের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দুই-রাষ্ট্র নীতির বাস্তবায়ন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পূর্ণব্যক্ত করেছেন তিনি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘শুধু কথা নয়, আমাদের কাজের মধ্য দিয়েই ফিলিস্তিনি জনগণের যন্ত্রণা উপশম করতে হবে।’ অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আমরা আর আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারি না।'

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবারো স্পষ্ট করা হয় যে, দেশটি ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানা ও পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে। এই সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৮,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। স্কুল, হাসপাতাল, এমনকি ত্রাণ শিবিরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’-এর অভিযোগও আনেন, সেইসঙ্গে এই সহিংসতাকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বক্তব্যে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি উপস্থিতি ধ্বংসের প্রবণতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের উপদেশমূলক মতামতের পরিপন্থী। বাংলাদেশ এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর ভূমিকা চায়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গাজার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তায় আরব-ইসলামিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন জানান, বাংলাদেশ জাতিসংঘের যে কোনো মানবিক ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় অংশ নিতে প্রস্তুত, এমনকি প্রয়োজন হলে জনবলও প্রেরণ করা সম্ভব।

আরও