জন্মনিবন্ধন না থাকায় অধিকারবঞ্চিত গাজীপুরের পথশিশুরা

জয়দেবপুর জংশন, বোর্ডবাজার, টঙ্গী ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় পথশিশুদের নিয়মিত আনাগোনা দেখা যায়।

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, চৌরাস্তা ও শিল্প-কারখানার আশপাশে প্রতিদিন দেখা মেলে অসংখ্য পথশিশুর। কেউ ফুল বা পানি বিক্রি করে, কেউ বোতল কুড়ায়, আবার কেউ কাজ করে হোটেল বা ওয়ার্কশপে। সরকারি ও বেসরকারি নানা উদ্যোগ থাকলেও এসব শিশুর সঠিক পরিসংখ্যান, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জন্মনিবন্ধন। অভিভাবকহীন এসব শিশুর জন্মনিবন্ধন না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি সুরক্ষা পাওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। এতে রাষ্ট্রীয় সুবিধার বাইরে থেকে যাওয়া এসব শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জয়দেবপুর জংশন, বোর্ডবাজার, টঙ্গী ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় পথশিশুদের নিয়মিত আনাগোনা দেখা যায়। সরকারি বা বেসরকারি নানা উদ্যোগ থাকলেও তাদের প্রকৃত সংখ্যা, অবস্থান ও পুনর্বাসনের পরের অবস্থার কোনো সমন্বিত চিত্র নেই। এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান জানান, জেলায় মোট কত পথশিশু রয়েছে, এর নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই।

জানা গেছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে বর্তমানে ১৫০ শিশু রয়েছে। কেন্দ্রটিতে ৬-১৮ বছর বয়সী শিশুদের আবাসন ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতি মাসে ১০-১২ জন শিশুকে পরিবারে ফিরিয়ে দেয়া হলেও পারিবারিক সমস্যা ও আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই আবার পথে ফিরে আসে। এছাড়া ভানুয়া শিশু পরিবারে রয়েছে আরো ৫০ শিশু।

সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের প্লাটফর্মে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে ‘মুসাফির ইশকুল’। গত ১০ বছরে প্রায় ২০০ শিশুকে বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। টঙ্গীতে ২০২০ সাল থেকে কাজ করা ‘স্ট্রিট চিলড্রেন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’-এর মতো বেসরকারি সংগঠনগুলোও অর্থ সংকট ও সরকারি নিবন্ধনের জটিলতার মুখে পড়ছে। এছাড়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে টঙ্গীর নতুন বাজার শিশু সুরক্ষা কমিউনিটি হাব থেকেও শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

পথশিশুদের পুনর্বাসনের সবচেয়ে বড় সংকট হলো পরিচয় ও জন্মনিবন্ধন। সরজমিনে দেখা যায়, নয় বছরের সাদ্দাম কিংবা ১০ বছরের সুফিয়া ও সৌরভদের কারো জন্মনিবন্ধন সনদ নেই। জন্মনিবন্ধন না থাকায় গাছার সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে রেফ্রিজারেশন ও ইলেকট্রনিকস বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগও তাদের জন্য বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মা-বাবাবিহীন শিশুদের তালিকা সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে পাঠানো হলে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন জানান, নির্দিষ্ট আবেদনের ভিত্তিতে জন্মনিবন্ধন করা গেলেও কোনো অভিভাবক ছাড়া জন্মনিবন্ধন দেয়ার সুযোগ নেই। এর অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও