‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধনীতে মাহদী আমিন

বাল্যবিবাহ রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত গুলব্রানসেন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বাল্যবিবাহ একটি অন্যতম সমস্যা। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকায় বাংলাদেশে এটি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

গতকাল রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন। এনআরকে টেলিথনের অর্থায়নে এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। উদ্বোধনী আয়োজনে সরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, কূটনীতিক, জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মী ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতারা অংশ নেন।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত গুলব্রানসেন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে বাল্যবিবাহ একটি অন্যতম সমস্যা। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকায় বাংলাদেশে এটি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ে, যা তাদের দারিদ্র্যের চক্রে আটকে ফেলে। নরওয়ের পররাষ্ট্র ও উন্নয়ন নীতিতে লিঙ্গ সমতা একটি প্রধান অগ্রাধিকার। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন যেভাবে তরুণ, পরিবার ও স্থানীয় সমাজকে যুক্ত করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব। সঠিক পদক্ষেপ, জোরালো অংশীদারত্ব এবং ধারাবাহিক প্রয়াসের মাধ্যমে আমরা এমন এক সমাজ গড়তে পারি, যেখানে প্রতিটি শিশু তার শৈশব ও শিক্ষার সুযোগ পাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশকে যদি সত্যিকারের সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর করতে হয়, তবে আমাদের মায়েদের, বোনদের ও কন্যাদের স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে আমাদের কন্যারা সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মান পাবে। তাদের ক্ষমতায়ন ও মেধার বিকাশই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দারিদ্র্য, সামাজিক চাপ কিংবা স্কুল থেকে ঝরে পড়ার কারণে বাল্যবিবাহের হার বৃদ্ধি পায়। যখন একটি কন্যার স্কুলে থাকার কথা, তখন তাকে কাবিননামায় সই করতে হচ্ছে—এটি আইনগতভাবে যেমন ভুল, তেমনি তার শৈশব ও অধিকারের পরিপন্থী। দারিদ্র্য যেন কোনো শিশুর কৈশোর বা শিক্ষা জীবনকে কেড়ে নিতে না পারে, সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং ‘চাইল্ড, নট ব্রাইড’ ক্যাম্পেইনের সচেতনতামূলক তিনটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মাহদী আমিন এ ধরনের সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গণমাধ্যম , সিভিল সোসাইটি, এনজিও এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সব অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে এমন একটি নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা তৈরি করতে চাই যেখানে বাল্যবিবাহের কোনো স্থান থাকবে না। সরকার নীতিনির্ধারণী জায়গা থেকে সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।’

আরও