নির্বাচনী
ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সিলেটে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। নির্বাচিত হলে তিন মাসের মধ্যে সিলেটে দখলদারত্ব, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল নগরীর একটি হোটেলের হলরুমে আনোয়ারুজ্জামান তার ২১ দফা নির্বাচনী
ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় আওয়ামী
লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা
উপস্থিত ছিলেন।
আনোয়ারুজ্জামান বলেন, ‘উন্নয়নের ক্ষেত্রে সব ওয়ার্ডে সমতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা এবং নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৫টি ওয়ার্ডকে দ্রুত পরিকল্পনার আওতায় এনে নগরায়ণের পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান নগর ভবনের দিকে তাকালেই বোঝা যায় এর অবকাঠামোগত অবস্থা কী পরিমাণ শোচনীয়। ভবনটি অর্ধেক নির্মিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রধান ফটক বন্ধ, গাড়ির প্রবেশ এবং নির্গমন পথ অচিহ্নিত, সামনের খালি জায়গায় নির্মাণ যন্ত্রপাতিসংবলিত গাড়ি পার্ক করে রাখা। আর ভবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে তো দিশাহারা হওয়ার অবস্থা—কোথায় কী আছে; কোন দিকে কোন দপ্তর, তার কোনো সুশৃঙ্খল বিন্যাস নেই। তথ্যকেন্দ্রও অকার্যকর।’
আনোয়ারুজ্জামান বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠান থেকে একটি মহানগরের যাবতীয় নাগরিক সেবা পরিচালিত হয় সে প্রতিষ্ঠান যদি অপর্যাপ্ত, অপূর্ণাঙ্গ ও অদক্ষ হয়, তখন জনগণকে কাঙ্ক্ষিত যুগোপযুগী সেবা প্রদান অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আমি প্রথমেই এ প্রতিষ্ঠানের উপরোক্ত সমস্যাসহ অন্যান্য বিরাজমান সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করব।’
আনোয়ারুজ্জামান বলেন, ‘সিলেট একটি ঐতিহ্যবাহী নগর। এ নগরকে কোনো অবস্থাতেই নোংরা, দূষণ, যানজট, অনিরাপদ ও অনিশ্চয়তার নগর হিসেবে আমরা দেখতে চাই না। বর্ধিত নগর হিসেবে এখনই সময় পরিকল্পিত নগরায়ণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা। পাশাপাশি এটাও সত্য, সিলেট ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শহর, আবেগের শহর, স্নিগ্ধতার শহর, লড়াই-সংগ্রাম-প্রতিবাদের শহর, অর্জনের শহর, গৌরব-গর্বের শহর, ভালোবাসার শহর, একটি প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক শহর।’
নৌকার প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামানের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারগুলো হচ্ছে স্মার্ট নগরভবন গড়া, সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব সিলেট গড়া, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও বন্যানিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, নিরাপদ স্বাস্থ্যকর সিলেট, দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবান্ধব সিলেট, নারীবান্ধব সিলেট, ব্যবসাবান্ধব সিলেট, পার্ক, উদ্যান ও খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠা, সচল সিলেট, মানবিক উন্নয়নে সিলেট, প্রবাসীবান্ধব সিলেট, সম্প্রীতির সিলেট, পর্যটনবান্ধব সিলেট, সামাজিক অপরাধ নির্মূল, অংশগ্রহণমূলক ও সুশাসিত সিলেট, নাগরিকবান্ধব সিলেট, তারুণ্যের সিলেট এবং প্রযুক্তির সিলেট গড়া।