কারিগরি শিক্ষার প্রসার

লালমনিরহাটে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

লালমনিরহাটে দক্ষ ও কর্মমুখী জনসম্পদ গড়ার লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘লালমনিরহাট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কারিগরি শিক্ষার প্রসারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

২০২৮ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সেকশনে শিক্ষার্থী ভর্তি ও হাতেকলমে শিক্ষাদান কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-মোগলহাট সড়কের বানভাসা এলাকায় ৫ একর জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে এ প্রকল্পের প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ২১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩২ জন মালিকের কাছ থেকে জমি বুঝে নেয় জেলা প্রশাসন। মূলত ২৩টি জেলায় একটি করে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের সরকারি প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ শেষে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প এলাকায় মাটি ভরাট করা হয়। বর্তমানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রধান ভৌত অবকাঠামো নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে ১১ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় প্রশাসনিক ভবন, ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকায় একাডেমিক ভবন এবং ১৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলছে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো গত বছরের ২৬ জুন কার্যাদেশ পাওয়ার পর এরই মধ্যে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের অবকাঠামো নির্মাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। চলতি মাসেই শুরু হয়েছে ওয়ার্কশপ ভবনের কাজ।

প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মো. মুকুল হোসেন বলেন, ‘‌প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক চিত্র বদলে যাবে। বিশ্বজুড়ে এখন কারিগরি শিক্ষার যে চাহিদা জেলার সন্তানরা এ পলিটেকনিক থেকে শিক্ষা নিয়ে সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে।’

লালমনিরহাট শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লালমনিরহাট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ, মাটি ভরাট ও ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রথম পর্যায়ে আমরা ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি।’

প্রকল্প বিষয়ে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে প্রশাসনিক, একাডেমিক, ওয়ার্কশপ ভবন ও বাউন্ডারি নির্মাণকাজ চলছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সেখানে আরো ১১টি সেকশনের পৃথক পৃথক ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণের পর ২০২৮ সালে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার কথা রয়েছে।’

আরও