জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ সম্মেলন আজ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবনের ৭০১ নম্বর সম্মেলন কক্ষে বেলা ৩টায় সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজ অবতরণ করে। এদিকে সফর নিয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবনের ৭০১ নম্বর সম্মেলন কক্ষে বেলা ৩টায় সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে। এক ক্ষুদেবার্তায় গতকাল এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপুল গতকাল জানান, প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি গতকাল সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়। দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় রাত সোয়া ২টায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও পার্শ্ববৈঠকে অংশ নেন। এসব বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরসঙ্গীদের নিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পৌঁছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন। এছাড়া সফরকালে শান্তি, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, মানবিক বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিশ্বসম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে দেশের স্বার্থ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন—মাহ্দী আমিন: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বসম্প্রদায়ের সামনে দেশের স্বার্থ ও সম্ভাবনাগুলো দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সমুন্নত রেখেছেন।’

গতকাল প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। মাহ্দী আমিন বলেন, ‘নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সংশ্লিষ্ট আটটি ও ১১টি প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচি। এছাড়া তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।

তিনি বলেন, ‘এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রফতানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জাতিসংঘে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল এ সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে দেশকে এক উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে গেছেন।’

মাহ্দী বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণটি ছিল এ সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তরুণ ও নারীদের মতো সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য সরকারের গৃহীত নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। আমরা আশা করছি, এগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।’

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে সরকারের রূপকল্পও উপস্থাপন করেন। সাধারণ বিতর্কে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু মোকাবেলা, ন্যায়সংগত উত্তরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও ধাত্রীসেবা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বা অংশগ্রহণ করেন।’

তিনি বলেন, ‘সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি কেবল বাংলাদেশের কথা বলেননি, তিনি বিশ্বশান্তির কথাও বলেছেন। ফিলিস্তিনে আমরা কীভাবে শান্তি দেখতে চাই, সে বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন।’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় সভাকক্ষ থেকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের বেরিয়ে আসার (ওয়াকআউট) মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাহ্দী আমিন জানান, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে সমর্থনেরও আশ্বাস পেয়েছে। তারা সবাই বাংলাদেশের পাশে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ অনেক বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আমরা দেখেছি বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা প্রধানমন্ত্রীকে কতটা উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সফরকালে উপস্থাপিত নীতি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনাগুলোকে এখন বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে কাজ করব।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে অনেক সফলতা রয়েছে। এ সফর দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনেরও প্রতিফলন ঘটিয়েছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় করার যে রেওয়াজ ছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের জমায়েত সমর্থন বা উৎসাহিত করেননি। আমাদের প্রথাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি একটি গুণগত পরিবর্তন।’

তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী দলের ছোট আকারের বিষয়টি উল্লেখ করে জানান, তার সফরসঙ্গী দলে সদস্য ছিলেন মাত্র ৩৫ জন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে বিশাল বহর নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে টার্কিশ এয়ারলাইনসের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন এবং এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন।

আরও