বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংবিধান মানলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো নির্বাচন হতো না। ওই নির্বাচন না হলে বিএনপি সরকার হয় কিভাবে আমরা বিরোধীদল হই কিভাবে? এই সংবিধানের নেশা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এ সংবিধান শুধু ফ্যাসিবাদের জন্মই দেয়নি, স্থায়ী রূপ দিয়েছিল। সংবিধানের যে সমস্ত জায়গায় আমূল পরিবর্তন দরকার সেখানে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছে। তারা যেগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট দেয়নি এখন সেগুলোও এড়িয়ে চলছেন। আজ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে দলটির উদ্যোগে 'জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি' উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি এখন ইনিয়ে-বিনিয়ে বলছে, সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছি আসেন এখানে কথা বলেন। যদি নোট অব ডিসেন্ট থেকে কোনো সমঝোতা করতে হয়, তাহলে আমাদের সাথে কমিটিতে বসতে হবে। তারা মূলত ৭০ ভাগ জনগণের সাথে ধাপ্পাবাজি করেছে। তারা চায় বিরোধীদলও ধাপ্পাবাজি করুক- আমরা এটা মেনে নেবো না। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদায় আমরা অটল। এই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকব, ইনশাআল্লাহ।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ইতোমধ্যে বহুবার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। কিন্তু আদালতে গিয়ে সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। আমরা ওই প্রক্রিয়ায় যেতে চাই না। আমরা পণ্ডশ্রম করব না এবং অতীতের ভুল ধারায় চলতে অভ্যস্ত নই, রাজি নই- এজন্যই আমরা সংস্কার চাই।
দেশে মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে অস্ত্র ও মাদক আসে, তা কেন বিএনপি ঠেকাতে পারে না। অনাকাঙ্ক্ষিত যে বিষয়গুলো যে সরকারের ঠেকানোর ক্ষমতা নাই, সেই সরকারের দেশ শাসনের কোনো অধিকার নাই। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার উপর করের বোঝা, দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে বিএনপি। মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ। প্রবাসে অস্থিরতার কারণে প্রবাসীরা ফেরত আসছেন। তাদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নাই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নাই। চাঁদাবাজির জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে বিএনপির কর্মীরা নিজেদের লোককে পাথর মেরে হত্যা করতে কুণ্ঠিত হয় না। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। এ সমস্ত পাহাড়সম ব্যর্থতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধীদলের উপর ইনিয়ে-বিনিয়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট- আমরা আমাদের দলীয় কোনো দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামিনি। আমরা নেমেছি জনগণের অধিকারের দাবি নিয়ে। প্রত্যেকটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই দাবি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসতে বিভিন্ন কায়দায় চাপ দেয়া হচ্ছে, যাতে আমরা এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করি। আমরা জানি, জন্ম যখন নিয়েছি, মৃত্যু আমাদের সাথী। কিন্তু অপমানের মৃত্যুবরণ করতে চাই না। জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করে সেই মৃত্যুবরণ করতে চাই। এ মৃত্যু হবে গর্বের। আমাদের নেতারা দেখিয়ে দিয়েছেন তারা কখনো অন্যায়ের কাছে কখনো মাথানত করেননি, আমরাও করব না।
তিনি বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি। কেউ যেন বিশৃঙ্খলা আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করেন। এ লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে। আমাদের দাবিগুলো কোনো দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়, কোনো পরিবারের নয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চকে ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র করবেন না। যদি কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে ১৯৯৮ সালে আওয়ামী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আমাদের যৌথ লংমার্চের কাফেলা যেভাবে চট্টগ্রাম গিয়েছিল; এবারো আমরা জনগণের জন্য একইভাবে গন্তব্যে পৌঁছাব, কোনো বাধা আমাদের আটকাতে পারবে না। কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথানত করব না। আমরা ন্যায়ের পথে আছি।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ড. মো. রেজাউল করিম। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম; এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন; জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার; এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ; এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ; রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী; দলের জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন; ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল; ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন; শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান; শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম; সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির ও আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির; বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন; জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু; ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন; জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ব্যক্তি ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।