আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, শুধু শিশু ধর্ষণ মামলার বিচারে হবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। তিনি বলেন, ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত করার জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন হচ্ছে। এতে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচারের সময় কমিয়ে আনা হচ্ছে।
আজ সোমবার (১৭ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। আগামী বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
আইন উপদেষ্টা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন অধ্যাদেশের খসড়ায় কী কী আছে, সেসব বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগেই দুটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এ আইনে বিচার ও তদন্তের সময় কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। খসড়ায় শিশু ধর্ষণের মামলার বিচার আলাদাভাবে করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের বিধান রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সবাই নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন।
নারী ও শিশু আদালতে ধর্ষণের মামলার জট লাগার কথা উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, এখানে দুই ধরনের মামলা আসে। সম্মতিসহ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের মামলার আধিক্য ছিল। আরেকটি হলো সম্মতি ব্যতিরেকে যে ধর্ষণের মামলা, সেগুলোর বিচার আটকে থাকত। তিনি বলেন, ‘সে জন্য আমরা বিধান যুক্ত করেছি, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্মতি নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে ধর্ষণের ঘটনাগুলোর বিচার আলাদা অপরাধ। আর সম্মতি ব্যতিরেকে মাগুরার ক্ষেত্রে, বরগুনার ক্ষেত্রে যে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটেছে, সে ধর্ষণের ঘটনা আলাদা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সম্মতি ব্যতিরেকে যে ধর্ষণ, সেটার ক্ষেত্রে বিচার ও তদন্তের সময় কমানো হয়েছে। এ মামলাগুলোয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’
ধর্ষণের সংজ্ঞায় পরিবর্তনের কথা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, বলাৎকারকেও এখানে যুক্ত করা হয়েছে। যেকোনোভাবে ধর্ষণ করা হলে সেটি ধর্ষণের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। ধর্ষণকালে বা ধর্ষণের উদ্দেশ্যে যদি জখম করা হয়, সেটিরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ডিএনএ পরীক্ষার সনদ পাওয়ার অপেক্ষায় অনেক মামলা বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকত উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, বিধান করা হচ্ছে ডিএনএ পরীক্ষার সনদ ছাড়াই আদালত যদি মনে করেন, চিকিৎসা সনদ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচার সম্ভব, তাহলে আদালত ডিএনএ সনদ ছাড়াই দ্রুত বিচারের জন্য চিকিৎসক সনদ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচার করবেন।
ঘটনার শিকার ব্যক্তির সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, অধ্যাদেশের খসড়া আগামী বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত অনুমোদন হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন। এরপর দ্রুত অধ্যাদেশের গেজেট হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এ অধ্যাদেশ পাসের সঙ্গে মাগুরায় সেই শিশু হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচারের সম্পর্ক নেই। তারা মনে করেন, খুবই দ্রুততার সঙ্গে এ মামলার বিচার হবে। এই মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার পথে। ডিএনএ পরীক্ষার সনদ পাওয়া যাবে দু-এক দিনের মধ্যে। তারা আশা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই এই মামলার বিচার শুরু হবে এবং খুব দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। যেহেতু অকাট্য অনেক প্রমাণ রয়েছে।